সময় কলকাতা ডেস্ক,৯ জুনঃ কালিয়াগঞ্জে এক কিশোরীকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার দু’টি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চে গেল রাজ্য সরকার। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হতে পারে ডিভিশন বেঞ্চে। কালিয়াগঞ্জকাণ্ডে বিচারপতি মান্থা একটি বিশেষ তদন্তকারী সিট গঠন করেছিলেন। তার মাথায় রাখা হয়েছিল দময়ন্তী সেনকে। সঙ্গে যুক্ত করা হয় প্রাক্তন সিবিআই কর্তা উপেন বিশ্বাস ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা পঙ্কজ দত্তকে। এঁরা কেউই তৃণমূল সরকারের “গুডবুকে” নেই।
আরও পড়ুন করমণ্ডল আতঙ্কের মাঝেই এবার পুরীগামী ট্রেনের এসি কোচের নীচে আগুন
মনে করা হচ্ছে ঠিক এই কারণেই রাজ্য সরকার, এই সিট গঠনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার আদালতে দ্বারস্থ হয়ে পঙ্কজ দত্ত ও উপেন বিশ্বাস অভিযোগ করেন, দময়ন্তী সেন সহযোগিতা করছেন না তাদের সঙ্গে। রাজ্য সরকারও কোনও সাহায্য করছে না। তারপর সিটের মাথা থেকে দময়ন্তীকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি মান্থা। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের রিপোর্টও তলব করেছেন বিচারপতি। এই বিষয়টিকেও চ্যালেঞ্জ করেছে রাজ্য সরকার। এখন দেখার আগামী সোমবার ডিভিশন বেঞ্চ কী নির্দেশ দেয়।

বৃহস্পতিবারই কালিয়াগঞ্জের কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগের তদন্তে গঠিত সিট থেকে আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে সরিয়ে দিলেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। সিটের বাকি দুই সদস্য উপেন বিশ্বাস ও পঙ্কজ দত্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে শুক্রবার দময়ন্তীকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এদিন প্রাক্তন সিবিআই কর্তা উপেন বিশ্বাস এবং অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজ দত্ত আদালতে হাজির হয়ে বলেন, সিট কোনও কাজ করতে পারেনি। তার দু’টি কারণ তাঁরা উল্লেখ করেন। এক, দময়ন্তী সেন কোনও সহযোগিতা করেননি। দুই, রাজ্য পুলিশও চূড়ান্ত অসহযোগিতা করেছে। তাঁরা এও বলেন, কালিয়াগঞ্জ যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের যে বন্দোবস্ত করে দেওয়ার কথা, সেই অর্থও দেওয়া হয়নি। সব শুনে বিচারপতি মান্থা স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন। সেইসঙ্গে এও বলেছেন, দময়ন্তীর জায়গায় কাকে সিটের মাথায় বসানো যায় তা যেন স্বরাষ্ট্রসচিব সুপারিশ করেন।

আরও পড়ুন কালিয়াগঞ্জের সিট থেকে দময়ন্তীকে সরাল হাইকোর্ট
উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসে কালিয়াগঞ্জের ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। পুলিশ যেভাবে কিশোরীর দেহ হেঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিল তা নিয়েও বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল। সেই ঘটনায় তেতে ওঠে কালিয়াগঞ্জ। দফায় দফায় চলে পথ অবরোধ। অশান্ত হয়ে ওঠে কালিয়াগঞ্জ-দুর্গাপুর জাতীয় সড়ক। জনতার রোষের মুখে পড়েন পুলিশকর্মীরা। বেপরোয়া ইটবৃষ্টি শুরু হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা লাঠি চালায় পুলিশ। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল। তুঙ্গে ওঠে কেন্দ্র-রাজ্য তরজাও। সেই ঘটনার তদন্তেই সিট গঠন করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। দু’দিন আগেই দময়ন্তীকে বদলি করেছে নবান্ন। কলকাতা পুলিশের স্পেশাল কমিশনার-২ থেকে দময়ন্তীকে পুলিশ ট্রেনিংয়ের আইজি করা হয়েছে।


More Stories
আসন বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধনী তথা মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে ব্যর্থ কেন্দ্র
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?