Home » পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি,হাইকোর্টে মামলা দায়ের কংগ্রেসের

পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি,হাইকোর্টে মামলা দায়ের কংগ্রেসের

সময় কলকাতা ডেস্ক,৯ জুনঃ রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং অনলাইনে মনোনয়নের দাবি নিয়ে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল কংগ্রেস। ওই মামলায় অনুমতি দিয়েছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। আবার আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে মামলা করেছে বিজেপিও। সেই সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের দাবি, মনোনয়ন পেশের জন্য খুব কম সময় দেওয়া হয়েছে। তা আরও বাড়ানো হোক। এই দুই মামলা একত্রে শুক্রবার দুপুরে শুনানি হবে। শুনানিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী সহ সব পক্ষকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন   পঞ্চায়েত নির্বাচন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য ও তরজা

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই সরকারিভাবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৮ জুলাই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট। ফলপ্রকাশ ১১ জুলাই। শুক্রবার থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে মনোনয়ন পেশ। ভোটে নিরাপত্তার দায়িত্বে যে রাজ্য পুলিশেই আস্থা রাখতে চলেছে কমিশন, মিলেছে সে ইঙ্গিতও। সেটাতেই মূল আপত্তি বিরোধীদের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভোট করার দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধীরা। সেই দাবিতেই এবার আদালতে গেল কংগ্রেস। দাবি, পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

আরও পড়ুন    শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের পর এবার অভিষেককে তলব ইডির

মনোনয়নপত্র যাতে অনলাইনে পেশ করা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি বিডিও বা মহকুমাশাসকের কাছে মনোনয়নপত্র পেশ করতে সমস্যা হলে সেটা যেন রাজ্য নির্বাচন কমিশন বা জেলা বিচারকের কাছে পেশ করার সুযোগ মেলে, সেই আরজিও জানানো হয়েছে মামলায়। প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে শুক্রবারই মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী।


প্রসঙ্গত,দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত ভোটের তারিখ ঘোষণা করলেন নব নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তবে পঞ্চায়েত ভোটের নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশ নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনী? পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিরাপত্তা দেবে কে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে রাজীব সিনহা রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা রাখার ইঙ্গিতই দিলেন। জানা গিয়েছে ৮ জুলাই, শনিবার রাজ্যে ৬৩ হাজার ২৮৩টি আসনে একদফাতেই ভোট গ্রহণ করা হবে। আগামী ৯ জুন থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া শুরু হবে। ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য ২০ জুন পর্যন্ত সময় পাবেন পঞ্চায়েত ভোটের প্রার্থীরা। ১১ জুলাই গণনা ও ফলাফল ঘোষণা।

রাজ্যে মোট ২২টি জেলায় ৩৩১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। মোট পঞ্চায়েত আসন ৬৩ হাজার ২৮৩টি। গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচন কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৯৪। পঞ্চায়েত ভোটে মোট ভোটার হল ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ ২১ হাজার ২৩৪। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটার রয়েছে মুর্শিদাবাদে। সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছেন কালিম্পংয়ে। অন্যদিকে, শুক্রবার অর্থাৎ ৯ জুন থেকেই’’ রাজ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হয়ে যাচ্ছে। ফলে রাত ১০টা থেকে সকাল ৮ পর্যন্ত মিটিং মিছিল করা যাবে না। তবে বর্ষায় ভোট হওয়ায় গ্রামে ভোট দিতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। পাশাপাশি সর্বদলীয় বৈঠক না করেই পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ।

About Post Author