সময় কলকাতা ডেস্ক,১৪ জুনঃ মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়ে ছিল ভাঙড় দু’নম্বর ব্লকের কাঠালিয়া এবং বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকা। ঘটনার পর থেকেই এখনও থমথমে এলাকা। বন্ধ ছিল এলাকার দোকানপাট। তবে বুধবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে খুলছে এলাকার দোকান।আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষের পর যে সমস্ত বাইকে ভাঙচুর করা হয়েছিল, পুলিশ একাধিক বাইক এবং গাড়ি উদ্ধার করে নিয়ে গেলেও এখনো কাঠালিয়া এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাঙাচোরা বাইক। ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের সামনে রয়েছে পুলিশ পিকেটিং। বুধবারের মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, সেদিকেই নজর রাখছে প্রশাসনের আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন মনোনয়ন ঘিরে তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ, অভিযোগের তির আইএসএফের দিকে

মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। ভোর হতেই শুরু হয় বোমাবাজি। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে। এমনকী বিডিও অফিস চত্বরঅ এদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দু-দলের কর্মী সমর্থকদের হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মারামারির ছবি তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। তাঁদেরকেঅ এদিন মারধর করা হয়। এদিন শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন দিতে যান তৃণমূল প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, আইএসএফ বাধা দিলে যাতে প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য তৈরি হয়েই আসতে হয়েছে তাঁদের। আইএসএফ-সিপিআইএমের অভিযোগ,এদিন মনোনয়ন দিতে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা, এমনকী গুলি চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ করতে গেলে অগ্নিগর্ভ চেহারা নেয় ভাঙড়। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলতে থাকে বোমাবাজি।

উল্লেখ্য,শুক্রবার থেকেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু করেছেন প্রার্থীরা। আর এই মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কোথাও গোষ্ঠীকোন্দল আবার কোথাও শাসক বিরোধী লড়াই, প্রতিনিয়ত অশান্তির খবর মিলেছে। পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি রুখতে সোমবার থেকেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণার পরেই রাজ্যে চিঠি পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তারা জানাল, ভোটের সময়ে নজরদারি চালাতে রাজ্যে আসবে তারা। রাজ্যজুড়ে মনোনয়ন সংক্রান্ত অশান্তির আবহে ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে এবং মনোনয়নকে ঘিরে যাতে রাজ্যে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে,রাজ্যপাল নিযুক্ত ১৪ উপাচার্যের বেতন এবং ভাতা বন্ধের নির্দেশ ব্রাত্যর

এদিকে রাজীব সিনহাও রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন ও ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে সবরকম পদক্ষেপ করছে কমিশন। পাশাপাশি, জানিয়েছে, ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা, সেই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে তারা। এসবের মধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে মানবাধিকার জানিয়েছে, তারা নজরদারি চালাবে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে। অর্থাৎ কোথাও কোনও অশান্তি হলে তারা নিজেদের উদ্যোগে রিপোর্ট তৈরি করবে এবং পরবর্তীকালে তা দেখিয়ে রাজ্যের কাছে জবাবদিহিও চাইতে পারে তারা।


More Stories
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা