Home » পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৫ জুনঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ফের ধাক্কা খেল রাজ্য। দুই সিঙ্গেল বেঞ্চের পর ডিভিশন বেঞ্চেও খারিজ হয়ে গেল রাজ্যের আবেদন। সিবিআই তদন্তের নির্দেশই বহাল রাখল বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। বলা ভাল, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশই বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ। সেক্ষেত্রে পুর নিয়োগের দুর্নীতিতে সিবিআই তদন্তের ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না। পুর নিয়োগ দুর্নীতির কথা প্রথম সামনে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল গ্রেফতার হওয়ার পর। ইডি আদালতে দাবি করেছিল, তাঁর থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে পুর নিয়োগে দুর্নীতির হদিশ মিলেছে। ইডি এও দাবি করে, সেইসব নথি দেখে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৬০টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। তারপরেই পৃথকভাবে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন    পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির জের, বীরভূম জেলার একাধিক পুরসভার নিয়োগের তথ্য তলব

গত ৭ জুন পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে রাজ্যের ১৪ টি পুরসভা সহ ২০ টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। বিধাননগরের পুর দফতরের নগরায়ন দফতরেও চলে তল্লাশি। বিচারপতি অভিজিত্ গঙ্গোপাধ্যায় পুর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। কিন্তু, সেখানেও ধাক্কা খায় রাজ্য। সর্বোচ্চ আদালত রক্ষাকবচ দেয়নি। মামলায় যায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। সেখানেও এই নির্দেশ বজায় থাকে। রাজ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে যায়।

উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীলের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে সিবিআই জানতে পারে যে, পুর নিয়োগেও দুর্নীতি হয়েছে! অফিস ও বাড়ি থেকে এমন কিছু তথ্য উদ্ধার হয়, যা থেকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে এই নিয়োগেও বড় গরমিল হয়েছে। বিষয়টি আদালতে জানাতেই পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তারপরই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। প্রায় দেড় মাস আগে প্রথম এফআইআর দায়ের করে এই দুর্নীতি মামলায় তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু রাজ্য সরকার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চ ও সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলাকে হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়। মঙ্গলবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলা করে রাজ্য।

আরও পড়ুন    পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দ্বারস্থ রাজ্য

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল এখন ইডির জালে। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা,অ্যাডমিট কার্ড ও একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী শান্তনু ও অয়নের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য একএকরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি।

About Post Author