সময় কলকাতা ডেস্ক,১৫ জুন: বৃহস্পতিবার মনোনয়নের শেষপর্বে রণক্ষেত্র ভাঙড়। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়ছে ভাঙড় ২ বিডিও অফিসের বাইরে।চলে বেশ কয়েক রাউণ্ড গুলিও। তৃণমূল এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সংঘর্ষে আবার অশান্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। তার জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক আইএসএফ কর্মীর। জখম হয়েছেন দুই তৃণমূল কর্মীও। এমনটাই দাবি যুযুধান দুই পক্ষের। বুধবার যে অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল তা ফিরে এল বৃহস্পতিবারও। ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের কাঁঠালিয়া মোড়ে আবার মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে গুলি চালানোরও। বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। চলছে পুলিশি টহলদারিও। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে প্রথম থেকেই থমথমে পরিস্থিতি ছিল ভাঙড়ে। ভাঙড়ের দু’টি বিডিও অফিস চত্বরেই জড়ো হন তৃণমূল এবং বেলা গড়াতেই আইএসএফ-এর কর্মীরা। এর পরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়ে ছিল ভাঙ্গড় দু’নম্বর ব্লকের কাঠালিয়া এবং বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকা। ঘটনার পর থেকেই এখনও থমথমে এলাকা। বন্ধ ছিল এলাকার দোকানপাট। তবে বুধবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে খুলছে এলাকার দোকান। সংঘর্ষের পর যে সমস্ত বাইকে ভাঙচুর করা হয়েছিল পুলিশ একাধিক বাইক এবং গাড়ি উদ্ধার করে নিয়ে গেলেও এখনো কাঠালিয়া এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাঙাচোরা বাইক। ভাঙ্গর ২ নম্বর ব্লকের সামনে রয়েছে পুলিশ পিকেটিং। বুধবারের মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অশান্তি না হয় সেদিকেই নজর রাখছে প্রশাসনের আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে হাইকোর্টে নির্বাচন কমিশন

মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। ভোর হতেই শুরু হয় বোমাবাজি। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে। এমনকী বিডিও অফিস চত্বরঅ এদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দু-দলের কর্মী সমর্থকদের হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মারামারির ছবি তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। তাঁদেরকেঅ এদিন মারধর করা হয়। এদিন শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন দিতে যান তৃণমূল প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, আইএসএফ বাধা দিলে যাতে প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য তৈরি হয়েই আসতে হয়েছে তাঁদের।আইএসএফ-সিপিআইএমের অভিযোগ,এদিন মনোনয়ন দিতে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা, এমনকী গুলি চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ করতে গেলে অগ্নিগর্ভ চেহারা নেয় ভাঙড়। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলতে থাকে বোমাবাজি।

মঙ্গলবার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বুধবার ফের আইএসএফ–তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। লাঠি বাঁশ ইট নিয়ে বুধবার সকাল থেকেই পথে নেমে পড়ে আইএসএফ–তৃণমূল দুদলের কর্মী সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাজেহাল পুলিশ। মনোনয়নের ফর্ম তোলাকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে। ভোর হতেই শুরু হয় বোমাবাজি। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও রীতিমতো শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন দিতে যান তৃণমূল প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, আইএসএফ বাধা দিলে যাতে প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য তৈরি হয়েই আসতে হয়েছে তাঁদের। এদিনও বিডিও অফিস চত্বরে কার্যত রণক্ষেত্র। দু-দলের কর্মী সমর্থকদের হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।ভাঙড়ের গন্ডগোল ছড়ায় বাসন্তী হাইওয়েতেও। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়তে শুরু করে। ভাঙচুর করা হয় একাধিক গাড়ি। জখম হয় উভয় পক্ষেরই বেশ কয়েক জন কর্মী সমর্থক।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি