Home » পাটনা বিরোধী বৈঠক কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

পাটনা বিরোধী বৈঠক কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৩ জুন :বিরোধী বৈঠক বলে কিছু না হোক, অতীতেও বহু সম্মেলনের সাক্ষী থেকেছে পাটনা।হাজার হাজার বছরের রেওয়াজ।রেওয়াজ চলে আসছে পাটনা যখন পাটালিপুত্র ছিল  তখন থেকেই। পাটালিপুত্রে  তৃতীয় বৌদ্ধ সম্মেলন হয়েছিল সন্ন্যাসী উপগুপ্তের সভাপতিত্বে। সেই সম্মেলনের ফল ছিল সুদূরপ্রসারী।ঠিক ২৩০০ বছর পরে  আবার এক মহাসম্মেলন যাকে বিরোধী বৈঠক বলা হচ্ছে তা অনুষ্ঠিত হল পাটনায়। লক্ষ্য  ২০২৪ লোকসভা। লক্ষ্য একযোগে শাসক দলকে গদিচ্যুত করা।চাণক্যের বাসস্থান পাটলিপুত্রে বিরোধী বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কী সূত্র বেরিয়ে এল, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে এই বৈঠক?

এবার  নীতীশ কুমারের উদ্যোগে পাটনা বৈঠকে যোগ দেন ১৫টি বিজেপি বিরোধী দলের ৩০ জন প্রতিনিধি পাটনায় আসেন ও বৈঠকে যোগদান করেন। পাটনা বিরোধী বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে আগামীদিনে একসঙ্গে লোকসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন এমনটাই জানান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ।শাসক দলের অবসানে একজোট হয়েছিল ১৫ দলের প্রতিনিধিরা। লক্ষ্য ২০২৪ লোকসভা ভোট।পাটনায় বিরোধী জোট একত্রিত হলেন, একজোট হলেন এবং আরেকটি সম্মেলনের ডাক দিলেন। কি ইঙ্গিত দিল পাটনা বৈঠক যাকে বিরোধী বৈঠকের আখ্যা দেওয়া হচ্ছে ?

মিশন ২০২৪ লোকসভা।বিরোধী জোট হওয়ার আগে ভাবা হয়েছিল কংগ্রেসকে আঞ্চলিক দল পাশে পাবে না বা আঞ্চলিক দলগুলি। সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করতে উদ্যোগী ছিলেন নীতিশ কুমার, লালু প্রসাদ, মমতা, রাহুল গান্ধীরা। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “উই আর ইউনাইটেড। “সত্যি কি ইউনাইটেড? সময় বলবে সেকথা।

এদিন বৈঠকের শেষে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘‘কিছু দিন পরেই পরবর্তী বৈঠক হবে। বিরোধী জোট গড়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’’ রাহুল আরও বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে ছোটখাটো মতপার্থক্য হবে। কিন্তু আমাদের নমনীয় হয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ, আমরা একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।  হিমাচল প্রদেশের সিমলায় যে পরবর্তী বিরোধী বৈঠক হবে তা অত্যন্ত পরিষ্কার, আর এখানে পরবর্তী লক্ষ্য গ্রন্থ করার বার্তা রেখেছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, নীতীশ কুমার। অর্থাৎ কংগ্রেস বা  অকংগ্রেস – যেকোনো দৃষ্টিকোণ থেকে  দেখা হোক না কেন ব্যাটন আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে কংগ্রেসের হাতে।শরদ পওয়ার, উদ্ধব ঠাকরে, মেহবুবা মুফতির মতো নেতারাও পারস্পরিক মতবিরোধ দূরে সরিয়ে একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলেছেন এবং সিমলায় পরবর্তী বিজেপি বিরোধী বৈঠকের আগে তারা একজোট। এ প্রসঙ্গে সিমলার বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিজেপি বিরোধীদের জোটের মুখ হিসেবে  নীতীশ কুমারের সিদ্ধান্ত। তিনি জোটের তরফে বলতে দিয়েছেন রাহুল গান্ধীকে। অন্যদিকে, এ মুহূর্তে যে কয়েকটি রাজ্যে কংগ্রেসের শাসন বর্তমান, তারমধ্যে অন্যতম হিমাচল প্রদেশ। বিজেপি বিরোধী ঐক্যে  কেবল কাঁটা হয়ে থাকল কংগ্রেস ও আপের মধ্যে কেন্দ্রীয় অর্ডিন্যান্সের ইস্যুতে মতবিরোধ।এরকম কিছু ছন্দ লয়ে ব্যাঘাত ছাড়া বলাই যেতে পারে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ধীরে হলেও বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর নমনীয়তার তত্ত্বকে সামনে রেখে এগোতে চাইছে বিজেপি বিরোধীরা। আঞ্চলিকভাবে শক্তিশালী দলকে উপযুক্ত মর্যাদাদানের মধ্যেই কী লুকিয়ে আছে নমনীয়তার তত্ত্ব তা সময়ই বলবে এবং তাই হতে চলেছে আগামী দিনের বিজেপি বিরোধী জোটের এক্স ফ্যাক্টর।।

About Post Author