সময় কলকাতা ডেস্ক,৩ জুলাইঃ পঞ্চায়েত নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া এবং রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবাজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলার গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে তা খারিজ করে দেন তাঁরা। শ্রীধর বাগারি নামে প্রাক্তন সেনা আধিকারিক হাই কোর্টে পঞ্চায়েত নির্বাচন বন্ধ করার আর্জি ও সেই সঙ্গে রাজ্য জরুরি অবস্থা জারি করার আবেদন জানান। অভিযোগ ছিল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। কমিশন শাসক দলের নির্দেশমতো কাজ করছেন। মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হচ্ছে। সেই মামলার শুনানিতে সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, কোন পরিস্থতিতে রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে, তা একমাত্র রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আরও পড়ুন ক্যানিং,ভাঙড়,কোচবিহারের পর এবার বাসন্তীতে রাজ্যপাল

তিনি এও জানান, রাজ্যপাল এবং হাই কোর্টের ক্ষমতা আছে, নির্বাচন বন্ধ করার। কিন্তু নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা। তাই আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। মানুষের নিরাপত্তা, জীবন-জীবিকার আঘাত এলে আদালত নিশ্চিতভাবে হস্তক্ষেপ করবে। ইতিমধ্যেই ১২% আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন শাসকদলের প্রার্থীরা। তাহলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কোথায়? প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী। অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত ঘোষাণা হওয়ার পর আদালত হস্তক্ষেপও করতে পারে না। গণতন্ত্রে নির্বাচিত সরকার চলছে রাজ্যে। সেখানে রাজ্যপাল বা হাই কোর্ট কখনওই জরুরী অবস্থা জারি করতে পারে না। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলা খারিজ করে দেয়।

এদিকে,আইএসএফ মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। ভাঙড়ের ৮২ জন আইএসএফ প্রার্থীকে পুনরায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন বিচারপতি সিনহা। সেই নির্দেশই সোমবার খারিজ করল বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, নতুন আর কোনও মনোনয়ন নয়। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আদালতের এই রায় আইএসএফের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভাঙড়ের আইএসএফ কর্মীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। হাইকোর্ট ১৫ জুন নির্দেশ দিয়েছিল, ভাঙড়ের আইএসএফ প্রার্থীদের পুলিশি এসকর্ট করে বিডিও অফিসে পৌঁছে দিতে হবে। সেদিনই বিডিও অফিসের অদূরে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?