সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ জুলাই: মহারাষ্ট্রে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ। এবার এনসিপির দুই সাংসদ প্রফুল্ল প্যাটেল এবং সুনীল তৎকারেকে দল থেকে বহিষ্কার করল এনসিপি। সোমবার টুইট করে এমনটাই জানিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রধান শরদ পাওয়ার। আগেই ৩ জন নেতা এবং কয়েকজন বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল এনসিপি। বহিষ্কৃত তিন নেতার মধ্যে রয়েছেন দলের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক শিবাজি রাও গারজে, দলের আকোলা সিটি জেলা সভাপতি বিজয় দেশমুখ এবং দলের মুম্বাই বিভাগের কার্যকরী সভাপতি নরেন্দ্র রানে। এই ৩ জন নেতাই মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অজিত পাওয়ারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। এবার দলবিরোধী কার্যকলাপের অপরাধে অপরাধী দলের দুই লোকসভার সদস্য প্রফুল্ল প্যাটেল এবং সুনীল তৎকারেও।

এর আগেও এনসিপির সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে শরদ পাওয়ারকে চিঠি লিখে প্রফুল্ল প্যাটেল এবং সুনীল তৎকারেকে বহিষ্কারের আর্জি জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, এই দুই সাংসদ ২ জুলাই দলীয় দলীয় বিধি ভঙ্গের কাজ করেছেন এবং দলত্যাগী ৯ জন বিধায়কের শপথ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়ে পার্টি বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছেন। ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিলের অধীনে দল বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেছিলেন শরদ পাওয়ারকে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বহিষ্কার করা হল দুজনকে।

প্রসঙ্গত, রবিবারই মহারাষ্ট্রের শিবসেনা-বিজেপি জোট সরকারে যোগ দিয়েছেন অজিত পাওয়ার। রবিবাসরীয় দুপুরে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথও নেন। রবিবার সকালেই বেশ কয়েকজন দলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন অজিত পাওয়ার। শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলেও সেই বৈঠকে ছিলেন। সূত্রের খবর, শরদ পাওয়ার এই বৈঠক সম্পর্কে কিছু জানতেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই ভাইপো অজিতের সঙ্গে শরদ পাওয়ারের সংঘাতের খবর শিরোনামে আসছিল৷ শরদ পাওয়ারের পদত্যাগের পরেও অজিতের বিজেপি-তে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও প্রকট হয়৷ শেষপর্যন্ত অজিতের ‘বিদ্রোহে’র পরই এনসিপির ফাটল স্পষ্ট হয়।

২০১৯ সালে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের সঙ্গে মিলে সরকার গড়েছিলেন তিনদিনের জন্য। ভোরে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ করেছিলেন অজিত পাওয়ার। সেই সরকারের পতন হয়। তিনি পদত্যাগ করে ফিরে আসেন কাকা শরদ পাওয়ারের কাছে। পরে উদ্ধব ঠাকরের সরকারেও উপমুখ্যমন্ত্রী হন অজিত পাওয়ার। তবে ২০২২ সালে সেই সরকারও পড়ে যায়। এরপর বিগত একবছর ধরে মহারাষ্ট্রের বিরোধী দলনেতা পদে ছিলেন অজিত পাওয়ার। তবে রবিবার ফের একবার মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন অজিত পাওয়ার। এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে প্রায় ৪০ বিধায়ক নিয়ে বিজেপি-শিন্ডে জোট সরকারে যোগ দিলেন অজিত পাওয়ার।
আরও পড়ুন একধাক্কায় স্পর্শকাতর বুথ বাড়ল ২৫ গুণ, হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ করল কমিশন
এদিন তাঁর সঙ্গে শিন্ডে সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন এনসিপির আরও আটজন বিধায়ক। অজিত পাওয়ারের সঙ্গে শপথ নেওয়া অন্যতম এনসিপি নেতা হলেন ছগন ভুজবাল। ছগন ছাড়াও মন্ত্রী হয়েছেন এনসিপির হসান মুশরিফ, ধনঞ্জয় মুণ্ডে, দিলীপ ওয়াসলে পাতিল, ধর্মরাও বাবা আতরাম, অদিতিতটকরে, অনিল পাতিল, সঞ্জয় ভোঁসদে।


More Stories
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
রাজ্যসভায় নীতিশ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে এবার?
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক