Home » বাজার অগ্নিমূল্য : বাজার করতে গিয়ে পকেট ফাঁকা,ছ্যাঁকা খাচ্ছেন ক্রেতারা

বাজার অগ্নিমূল্য : বাজার করতে গিয়ে পকেট ফাঁকা,ছ্যাঁকা খাচ্ছেন ক্রেতারা

সময় কলকাতা ডেস্ক,৪ জুলাই : আগুন লেগেছে বাজারে, যার রেশ বাজার করতে গিয়ে ক্রেতাদের পকেটে।বাজার করতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। বাজারে ছ্যাঁকা খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তবুও বাজার করা হয়ে উঠছে না। শাক সবজি কেনা দূরস্থান, মাছ মাংস ডিম – প্রতিটি জিনিস মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

সাধারণ মানুষ কিনবে কি? মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তদের ক্ষমতার বাইরে বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় আনাজ। তিন, চার গুণ অনেকক্ষেত্রে দশ গুণ বেড়েছে সবজির দাম। উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে – লঙ্কা, আদা, টোম্যাটো, বেগুন, শশা প্রভৃতির কথা। এদের মধ্যে আদার দাম ৩৫০ টাকা কিলো হলেও আদার ফলনের প্রকৃত সময় না হওয়ায় আদার দাম এসময় বেড়ে যায়। কিন্তু এরকম মূল্যবৃদ্ধি অভাবনীয় ছিল। লঙ্কার দাম হঠাৎ করেই ৩০০ টাকা কিলো হয়েছে যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১০০ টাকা কিলো। টোম্যাটো ৪০ টাকা কিলো থেকে ২০০ টাকা ছুঁয়েছে আচমকা। বেগুন গত পনেরো দিন আগেই সেঞ্চুরি করেছে। এখন বাজার বিশেষে দাম ১২০-১৪০ টাকা কিলো। শশা ৭০-৮০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা কিলো। লাউ, চালকুমড়ো, পটল সবকিছুর দাম প্রবল ভাবে বাড়ছে। ডিম, মুরগীর মাংস – সর্বত্র ক্রেতাদের সংকট গভীর হচ্ছে। প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বাড়ছে। থাকার মধ্যে রয়েছে আলু, রয়েছে সয়াবিন যা এখন ক্রেতাদের হেঁশেল সামলানোর একমাত্র পথ। বাঙালিদের ভবিতব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে আলু সয়াবিনের মত দু একটি জিনিস।

কেন এই অগ্নিমূল্য? আগুন বাজারের জন্য অন্যতম কারণ আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা৷ এ বছর মরশুম শুরুতে একটানা বৃষ্টিহীন তীব্র গরমের পর হঠাৎ বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবজির চাষ- আবাদ৷ সবজির বিক্রেতা ও কৃষকদের ধারণা, বৃষ্টি নিয়মিত হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সবজির দাম কমবে৷ তবে একটানা বৃষ্টিও বাজারের পক্ষে খুব স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে না। চড়া গরম এবং অকালবর্ষণ দাম হ্রাসের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন সবজি চাষি ও বিক্রেতারা।
কিন্তু সত্যি কি সবজির এরকম দাম প্রাকৃতিক কারণের জন্যই বাড়ছে? ভুক্তভোগী ক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, জোর করে ক্রেতাদের ওপরে এই দাম চাপানো হচ্ছে। বেশ বড় অংশের মানুষের ধারণা, এই মূল্যবৃদ্ধি যত না প্রাকৃতিক কারণে তার সহস্র গুণ বেশি ম্যানমেড। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন। সাধারণ মানুষের অনেকেই বলছেন, ভোট হলেই বাজারে আগুন লাগে, জিনিসের দাম বাড়ানো হয়। মাঝখান থেকে তক্কে তক্কে থাকেন ফোঁড়েরা। তারা সুযোগ বুঝে কোপ মারেন। মজুতদারদের পোয়াবারো, তাদের এটাই মুনাফার সময়, এমনটাই বলছেন ক্রেতারা, বলছেন পরিস্থিতির বিশ্লেষকরা।

অনেকেই বলছেন , শক্ত হাতে হাল ধরলে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়টি ওপর নজর রেখে টাস্ক ফোর্স-এর আধিকারিকদের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করতে বলেন। সোমবার থেকে টাস্ক ফোর্স-এর সদস্যরা বেশ কয়েকটি বাজারে অভিযান চালান। প্রথমে তারা সল্টলেকের বিভিন্ন বাজারে যান,দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানতে চান শাক-সবজির দরদাম । সোমবারই ১৬টি বাজার পরিদর্শন করেন টাস্ক ফোর্সের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবারও একাধিক মার্কেট সহ শিয়ালদার কোলে মার্কেট পরিদর্শন করে টাস্ক ফোর্স আনাজের মূল্যবৃদ্ধির সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট জমা পড়ার কথা। সাধারণ মানুষ রিপোর্ট বোঝেন না, তাঁরা জেরবার, তাঁরা অবিলম্বে প্রতিকার চান।।

About Post Author