সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ জুলাই : রাজ্য আবার অশান্ত। পঞ্চায়েত নির্বাচন আসন্ন।আর তিনদিনও বাকি নেই ভোটের । পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে রক্ত ঝরছে বঙ্গে , ঝরে পড়ছে প্রাণ।আরও একবার রক্তগঙ্গা বইল বঙ্গে, এবার প্রাণ গেল ১৭ বছরের স্কুলপড়ুয়া কিশোরের। মঙ্গলবার রক্তস্নাত হল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা। দেগঙ্গার শোয়াইসেতপুরে তৃণমূলের মিছিলে বোমা পড়ে যার ফলে প্রাণ হারায় স্থানীয় ১৭ বছরের স্কুলপড়ুয়া । নিহতের পরিবারের তরফে দাবী করা হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে ।নিহত স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যুর জন্য তাদের পরিবারের তরফে সরাসরি অভিযোগের তীর বিরোধীদের দিকে। অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে সিপিএম ও আইএসএফের দিকে।অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে শোয়াইসেতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েতের গাংহাটি গ্রামে তৃণমূলের মিছিলে বোমা ছোঁড়ে সিপিএম ও আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে ওই ১৭ বছরের স্কুলপড়ুয়া । তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্বনাথপুর গ্রামীণ হাসপাতালে যেখানে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেগঙ্গা । নিহতের কাকা মহম্মদ আরসাদুল হক নিজেকে দীর্ঘ দিনের তৃণমূল সমর্থক বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমাদের মিছিলে বোমা ছুড়েছে সিপিএম, আইএসএফ। আমরা চাইব প্রশাসন যেন দোষীদের উপযুক্ত সাজা দেয়।”
সিপিএম ও আইএসএফের বক্তব্য জানা না গেলেও বারাসাতের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘স্কুল পড়ুয়া ওই কিশোরকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। আইএসএফ বোমা–গুলি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গোটা ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ”। পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে।তাদের বুধবার বারাসাত আদালতে তোলা হয়
অন্যদিকে নির্বাচনের প্রাক্কালে হিংসার খবর মিলেছে বসিরহাট থেকেও ।অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত্রি নটা নাগাদ হাসনাবাদের পাটলি খানপুরে সিপিএমের আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী এক সক্রিয় তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে তার ১২বছরের ছেলেকে আক্রমণ করে। সিপিএম পাল্টা চক্রান্তের অভিযোগ এনেছে। এরকম অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত বঙ্গ।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তব সম্পূর্ণ ভিন্ন।বুধবার অধীর চৌধুরী পক্ষ থেকে তাঁর আইনজীবী আদালতে ১৩ জনের প্রাণহানির কথা বলছেন । দেগঙ্গার ১৭ বছরের স্কুলপড়ুয়া মৃত্যু ধরলে মৃত্যু মিছিলে সামিল অন্তত ১৪ জন। বিভিন্ন বয়সের মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বাদ নেই কিশোর স্কুল ছাত্রও।বুধবার আদালত জানিয়েছে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে, ভোট হবে এক দফায়। নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ হবে পরবর্তী প্রশ্ন। আপাতত হিংসার আবহ থেকে মুক্তি মিলবে কীকরে তার সুনির্দিষ্ট কোনও দিশা মিলছে না।।


More Stories
এবার থানায় থানায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে এফআইআর করবে কংগ্রেস
মেজবাবুকে চড় মেরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি : রেখা পাত্র
ডার্বির উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে , বড় ম্যাচে বড় পরীক্ষা পুলিশের