Home » পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ নয়, রায় কলকাতা হাইকোর্টের

পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ নয়, রায় কলকাতা হাইকোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক,৬ জুলাইঃ পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নেই। এমনটাই সাফ জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চও একই রায় দিয়েছিল। এদিন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে সিঙ্গেল রায়ই বহাল রাখলেন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন পর্বে রাজ্যজুড়ে একাধিক এলাকায় অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। এরপর মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসাবে কমিশনের ডিজি রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করবেন বলে নোটিস পাঠানো হয় রাজ্য নির্বাচন কমিশনে।

ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেই মামলায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নোটিস খারিজ করে দেয় বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যর সিঙ্গেল বেঞ্চ। তারপরেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় মানবাধিকার কমিশন। কিন্তু সেখানেও এই মামলার রায় ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতি জানান, মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকে ওই নোটিস জারি করেছিল মানবাধিকার কমিশন। কিন্তু শুধুমাত্র মিডিয়া রিপোর্ট ও আশঙ্কার জেরে পাঠানো ওই নোটিসের কোনও ভিত্তি নেই।

আরও পড়ুন       ফের রাজ্যপালের তলব এড়িয়ে গেলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার

প্রসঙ্গত,পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি রুখতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণার পরেই রাজ্যে চিঠি পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তারা জানায়, ভোটের সময়ে নজরদারি চালাতে রাজ্যে আসবে তারা। রাজ্যজুড়ে মনোনয়ন সংক্রান্ত অশান্তির আবহে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে এবং মনোনয়নকে ঘিরে যাতে রাজ্যে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপরই গত ২৪ জুন কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। মূলত হিংসার কথা মাথায় রেখেই পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তাদের বক্তব্য ছিল, ২০১৮-র পঞ্চায়েত, একুশের ভোট পরবর্তী সময়ে বাংলায় ভয়ঙ্কর ছবি দেখা গিয়েছিল। সেসব মাথায় রেখেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য ছিল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা। পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার হলে তারাই করবে। এখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কোনওভাবেই তা করতে পারে না। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে কমিশনের মামলার শুনানি ছিল। শুনানি শেষে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যকেই মান্যতা দিল উচ্চ আদালত। জানিয়ে দিল, নির্বাচনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে পারবে না। যার ফলে স্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন।

About Post Author