Home » “অশ্বত্থামা নয়, দ্রোণাচার্য হয়ে উঠুন “- রাজ্যপাল, রাজধর্ম ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার

“অশ্বত্থামা নয়, দ্রোণাচার্য হয়ে উঠুন “- রাজ্যপাল, রাজধর্ম ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ জুলাই : নির্বাচনের প্রাক্কালে “অশ্বত্থামা” না হয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে “দ্রোণাচার্য” হয়ে ওঠার পরামর্শ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজ্যে অশান্তির আবহ। নির্বাচনের দুদিন আগে নির্বাচনী সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের ব্যর্থতার কথা তুলে তাঁকে বেনজির আক্রমণ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি বলেছেন, তিনি বিভিন্ন সন্ত্রাস পীড়িত জায়গায় ঘুরে পরিস্থিতি বুঝেছেন। তাঁর পরামর্শ, দ্রোণাচার্য হয়ে উঠুন, অশ্বত্থামা হবেন না। কিন্তু এও জানিয়েছেন, রাজধর্ম পালনের জন্য রাজ্যপাল বসে আছেন। অশ্বত্থামা হয়ে অনৈতিক ও রাজধর্ম বিরোধী কাজ যেন না করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। রাজ্যপালের পৌরাণিক প্রসঙ্গের অবতারণায় খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দ্রোণাচার্য ও অশ্বত্থামা সম্পর্কে জানা।

কোন রাজধর্ম পালন করেছিলেন দ্রোণাচার্য? কোন রাজ ধর্ম বিরোধী কাজ করেছিলেন অশ্বত্থামা? মহাভারতের যুদ্ধে অশ্বত্থামা গৌরবদের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। পুত্রের প্রতি অগাধ স্নেহের কারণে দ্রোণাচার্য ও কৌরবের পক্ষ অবলম্বন করেন। যুদ্ধবিদ্যায় কৃতবিদ্যা দ্রোণাচার্যকে রোখা অসম্ভব হয়ে পড়ছিল পাণ্ডবদের পক্ষে। অপ্রতিরোধ্য দ্রোণাচার্যকে নিরস্ত করতে কূটনৈতিক চাল হিসাবে ভীম অশ্বত্থামা নামের এক হস্তি বধ করেন। যে ঘটনার সাক্ষী ছিলেন স্বয়ং সত্যবাদী যুধিষ্ঠির। তিনি দ্রোণাচার্যকে জানান অশ্বত্থামা হত। ইতি গজ শব্দবন্ধ তিনি খুব মৃদু স্বরে বলায় তা শ্রুতিগোচর হয়নি দ্রোণাচার্যের। তিনি অস্ত্র ত্যাগ করেন ও ধৃষ্টদ্যুম্ন তাকে হত্যা করেন। এই অবস্থায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অশ্বত্থামা। কৌরব বাহিনীর পরাজয়ের পর কৌরব বাহিনীর সকলেই যখন নিহত, সে সময় বেঁচে ছিলেন কেবলমাত্র ধৃষ্টদ্যুম্ন, কৃতবর্মা, কৃপাচার্য। কৃতবর্মা ও কৃপাচার্যের বারণ সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে পাণ্ডবদের শিবিরে ঢোকেন অশ্বত্থামা। সে সময় পঞ্চপাণ্ডব ও কৃষ্ণ ছিলেন গঙ্গাতীরে। প্রথমে ধৃষ্টদ্যুম্নকে হত্যা করার পরে ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি শিখণ্ডী ও দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্র ও পাণ্ডব পক্ষের ঘুমন্ত যোদ্ধাদের হত্যা করেন। দ্রোণাচার্য অতঃপর পলায়ন করেন। রাজধর্ম ও মানবিক ধর্ম বিরোধী এই কাজের জন্য শ্রীকৃষ্ণ অশ্বত্থামার মাথার মনিটি কেড়ে নেন। যা ছিল তার বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক। অভিশাপ দেন যে কখনও অশ্বত্থামার মৃত্যু হবে না। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরে তাঁকে দেখা না গেলেও তিনি এখনও জীবিত আছেন এরকম লোকশ্রুতি থেকে গিয়েছে। থেকে গিয়েছে অশ্বত্থামা ও দ্রোণাচার্যের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ভূমিকার কথা। রাজ ধর্ম মেনে যুদ্ধে অবতীর্ণ দ্রোণাচার্য মানব ধর্ম মেনে পুত্রের মৃত্যুর সংবাদে অস্ত্র ত্যাগ করেছিলেন যুদ্ধে। থেকে গিয়েছে রাজ ধর্ম ও মানব ধর্ম বিরোধী অশ্বত্থামার গর্হিত অপরাধের কাহিনী, যখন রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত নিরস্ত্রদের প্রাণ তিনি কেড়ে নিয়েছিলেন।

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মহাভারতের ঘটনা তুলে বোঝাতে চেয়েছেন নিরীহ নিরপরাধ রাজ্যবাসীর রক্ত যখন ঝরছে, তখন রাজধর্ম পালন করাই আশু কর্তব্য। রাজ্যপাল অশ্বত্থামার পিতা দ্রোণাচার্যের মতই রাজধর্ম পালন করছেন। তাঁর পরামর্শ, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা যেন অশ্বত্থামা না হয়ে ওঠেন।।

About Post Author