সময় কলকাতা ডেস্ক,৬ জুলাইঃ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি পেয়েছিলেন, আবার তাঁরই নির্দেশে গিয়েছিল চাকরিও। আরও একবার চাকরি ফিরে পেতে আবার কলকাতা হাইকোর্টে দারস্থ ববিতা সরকার। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বিস্তারিত মেধাতালিকা প্রকাশ করার আবেদন নিয়ে মামলা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার মামলাটি ওঠে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে। উল্লেখ্য, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি গিয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর। পরিবর্তে চাকরি পান ববিতা সরকার। কিন্তু, পরবর্তীতে তাঁকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, ববিতার চাকরিতে বহাল থাকা সঠিক হবে না কারণ তাঁর প্রাপ্ত নম্বর সম্পর্কিত সঠিক তথ্য এসএসসি জমা দেয়নি।

অনামিকা রায়ের থেকে তিনি দুই নম্বর কম পান। আর নতুন এই মামলার প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার ওএমআর সিট প্রকাশের ক্ষেত্রে কমিশনের অবস্থান জানতে চায় হাইকোর্ট। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বিস্তারিত মেধাতালিকা প্রকাশ চেয়ে মামলা করেছেন ববিতা সরকার। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে SSC-র বক্তব্য জানতে চাইলেন। আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হতে চলেছে।ববিতার আবেদন, একাদশ-দ্বাদশের বিস্তারিত তথ্য সহ প্যানেল প্রকাশ করা হলে কারা, কী ভাবে, কোথায় চাকরি পেয়েছেন তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। যদি প্রথম ২০ জনের মধ্যে দুর্নীতির কারণে কেউ চাকরি পেয়ে থাকেন তবে তাঁর ফের শিক্ষিকা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন কয়লা পাচার মামলায় ইডির ‘হেনস্তার’ অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে দারস্থ অভিষেক পত্নী রুজিরা

গত ১৬ মে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চের নির্দেশে চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ববিতা সরকারকে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে যে তথ্য আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল সেই তথ্য সহ বাকি সব তথ্য খতিয়ে দেখে ববিতা সরকারের চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দেয় আদালত। জানা গিয়েছে, ববিতার অ্যাকাডেমিক স্কোর কম ছিল। ফলে সব দিক বিবেচনা করে ববিতার চাকরি বাতিল করার জন্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মামলাকারী অনামিকা রায়কে চাকরি দেওয়ার জন্য। আদালতের মন্তব্য, অনামিকাকে আর বেশিদিন ভোগানো উচিত নয়। যত শীঘ্র সম্ভব অনামিকাকে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বাড়ি থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে স্কুল দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি বাতিলের সময় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, চাকরিকাল যাবৎ অঙ্কিতা যে বেতন পেয়েছেন সেটা ফেরত দিতে হবে। সেই টাকা পাবেন ববিতা। কিন্তু যখন ববিতার চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, ববিতাকে প্রাপ্য টাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা রাখতে হবে।


More Stories
নারদায় ঘুষ খাওয়ার ছবিও এবার তুলে ধরব, পারলে মানহানির অভিযোগ করুক: কাকলিকে চ্যালেঞ্জ কুণালের
ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রভাব কোথায়? বিরোধিতা কেন?
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর