সময় কলকাতা ডেস্ক,১৫ জুলাই : বিষপ্রয়োগে মৃত্যুর ঘটনায় ৪ জনের পরিবারে ২ জন ইতিমধ্যেই মৃত আর অন্য দুজন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।সম্ভাব্য সায়নাইড জনিত বিষক্রিয়ায় পরিবারের প্রধান তাঁর কন্যা সহ আত্মঘাতী হয়েছেন , স্ত্রী আশঙ্কাজনক ও পুত্রের অবস্থা স্থিতিশীল ।ঘটনাটি কেরালার কোভালামের। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান,ঋণের দায়ে জর্জরিত পরিবারে সবার ওপরে বিষপ্রয়োগের একক সিদ্ধান্ত নেন পরিবার প্রধান শিবারাজন । পুলিশের এও অনুমান, পরিবারের অন্যদের অজান্তে তিনি তাঁর স্ত্রী,ছেলে ও মেয়েকে বিষ খাওয়ান । পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষ খাওয়ার সামান্য কিছুক্ষনের মধ্যেই ৫৬ বছর বয়সী শিবারাজন ও তাঁর ২২ বছর বয়সী মেয়ে আভিরামির মৃত্যু হয়। অন্যদিকে এই ঘটনায় শিবারাজনের স্ত্রী ৫০ বছর বয়সী বিন্দু আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ১৯ বছরের ছেলে অর্জুনের বিপদ না কাটলেও তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন । হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে অর্জুনের অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে।অন্যদিকে,ময়নাতদন্তের ফল হাতে এসেছে।সায়নাইড প্রয়োগে মৃত্যুর কথা পুলিশের প্রাথমিকভাবে ভাবার পেছনে রয়েছে অসুস্থদের মধ্যে থাকা রোগের লক্ষণ। এবং এই অনুমান যে আপাতত সঠিক তা প্রমাণিত। ময়নাতদন্তের ফলে দেখা গিয়েছে, মৃত দুজনের শরীরেই সায়নাইডের সাদৃশ্য যুক্ত বস্তুর অবস্থান।
সায়নাইড কি করে পেলেন শিবারাজন? পেশায় বাস ডিপোর কর্মী হলেও স্বর্ণকারের কাজও তিনি করতেন। সোনা নিষ্কাশনে, গোল্ড প্লেটিং ও সোনা পালিশের কাজে সায়নাইডের প্রয়োজন পড়ে। এই রাসায়নিকটি স্বর্ণশিল্পে ব্যবহার করা হয় সোনায় রক্তিম হলুদ আভা আনার জন্য।উল্লেখ্য,২০১৯ সালে কেরালায় এক মহিলা স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির ছ জনকে খুন করে সায়নাইড দিয়ে। অভিযুক্ত মহিলাকে বিষাক্ত রাসায়নিক জোগান দিয়েছিল এক সোনার দোকানের কর্মী। নিজে স্বয়ং সোনার কারবারে যুক্ত থাকায় বিষাক্ত রাসায়নিক পেতে অসুবিধে হয় নি শিবারাজনের।
আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, পটাশিয়াম সায়নাইড খেলে তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হবে এই ধারণা ভ্রান্ত। যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর হওয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই থাকে।পটাশিয়াম সায়ানাইড শরীরের তরল জলের উপস্থিতিতে হাইড্রোসায়ানিক এসিড তৈরি করে। রাসায়নিকটি লোহিত রক্তকণিকাকে অক্সিজেন সংগ্রহে বাধা দেয়, এর ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি রাখা যায় এবং কোষগুলিতে সমস্যা দেখা যায়। ফলে রোগী কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান হারান। বেঁচে থাকার হার অত্যন্ত কম হলেও যারা বেঁচে থাকেন তাদের স্নায়ুতন্ত্রের অসুবিধা থেকেই যায়।এবার আসা যাক শিবারাজনের ঘটনায়।
পুল্লানিমুক্কু এলাকায় বাড়ি বানাতে গিয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক ঋণ নেন শিবারাজন।ঋণের শোধ দিতে গিয়ে জেরবার হচ্ছিলেন শিবারাজন।ভিজনিজাম কেসিআরটিসি ডিপোর কর্মী শিবরাজনের পরিবারের ওপরে নেমে আসে আর্থিক অনটন।ঋণের বোঝা থাকলেও কোভিড কালীন পরিস্থিতিতে শিবারাজন টাকা শোধ করা বন্ধ রাখেন। কোভিড পরিস্থিতি কাটলে বন্ধু আত্মীয় পরিজনের কাছে আরও টাকা ধার করেন বাড়ির ঋণের হাত থেকে মুক্তি পেতে। এতে সুরাহা হওয়ার পরিবর্তে চাপ আরও বাড়ে। আর পেরে উঠছিলেন না শিবারাজন। বাড়ি বিক্রি করার পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়। অবশেষে আত্মঘাতী হওয়ার চরম পন্থার পরিকল্পনা নেন শিবারাজন। তিনি ঠিক করে নেন তাঁর ছোট পরিবারের সবাইকে নিয়ে আত্মহননের চরম পথ নেবেন। কিন্তু পরিবারের কাউকে এসম্পর্কে কিছুই জানান নি।পরিকল্পনা মাফিক তিনি বাড়ির সবাইকে গত কিছুদিন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সুফলের কথা বুঝিয়ে বি কমপ্লেক্স খাওয়াতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ভিটামিনের সঙ্গে রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করেন বলেই পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ।দ্রুত বিষ কাজ করতে থাকে।বৃহস্পতিবার রাত তিনটে নাগাদ,উনিশ বছরের অর্জুন বমি করতে শুরু করে দেখতে পায় বাড়ির বাকিরা সাড়াশব্দহীন ভাবে পড়ে আছে। এই অবস্থায় সে তার কাকাকে ফোন করে ডেকে আনে। অর্জুন বিষ বমি করে দেওয়ায় অন্যদের চেয়ে কম সংকটে ছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মাত্র দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। এখনও চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না বিন্দু। বিন্দুর ৮৫ বছর বয়সী মা যিনি বেশ কিছুদিন ধরে শিবারাজনের পরিবারের সঙ্গে থাকছিলেন তিনি শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই বিয়োগান্তক ঘটনার টের মাত্র পান নি।পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।।


More Stories
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত
আবার বিজয়ী, ইতিহাস গড়ল ভারত
নাশকতার ছক : রাজধানীতে বিস্ফোরণের আশঙ্কা , জারি হাই অ্যালার্ট