সময় কলকাতা ডেস্ক,২০ জুলাইঃ কুন্তল ঘোষের চিঠি মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ খারিজ করার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কোনও রক্ষাকবচ দেয়নি অভিষেককে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ৪৮২ ধারায় মামলা দায়ের করতে পারেন অভিষেক। তাই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলা করলেন অভিষেক। উল্লেখ্য, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত ২৯ মার্চ শহিদ মিনারের সভা থেকে বলেছিলেন, হেফাজতে মদন মিত্র, কুণাল ঘোষকে তাঁর নাম নিতে বলেছিল সিবিআই। সেইজন্য চাপও দেওয়া হয়েছিল। অভিষেকের দাবির পরেই বহিষ্কৃত যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ নিম্ন আদালতের বিচারক ও হেস্টিংস থানাকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি তাঁকে চাপ দিচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেওয়ার জন্য।

এরপরেই ৬ এপ্রিল জেল থেকে সোজা বিচারককে চিঠি লিখে বহিষ্কৃত যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলার জন্য তাঁর উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর লেখা চিঠি সেদিনই আদালত কক্ষে দেখান বিচারক। তারপরেই সিবিআইকে পৃথক এফ আইআর দায়ের করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও জল গড়িয়েছিল। যদিও তাতে সিবিআই তদন্ত আটকায়নি। ২০ মে এই মামলাতেই সিবিআই ন’ঘণ্টা ৪০ মিনিট নিজাম প্যালেসে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে সাত দিনের স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তারপর তা ফিরিয়ে দেয় হাইকোর্টে। উল্টে অভিষেক ও কুন্তলকে ২৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে যান অভিষেক, তবে সেখানও কোনও রক্ষাকবচ মেলেনি তাঁর। এবার ফের হাইকোর্টে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলা করলেন অভিষেক। ২৪ জুলাই এই মামলার শুনানি।
আরও পড়ুন ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে ত্রিস্তরীয় পুলিশি নিরাপত্তা

এর আগে গত ১৫ মে বিচারপতি সিনহা কুন্তল ঘোষের চিঠি কাণ্ডে স্থগিতাদেশ না দিলেও কোনও নির্দেশ দেননি। এদিন বিচারপতি সিনহা দাবি করেন, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নজরদারিতে এই মামলার শুনানি চলছিল। সেজন্য বিষয়টি সামনে আসার পরই বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, এবং সমস্ত বিষয় আদালতকে জানানো হয়। তারপরেই আদালত ওই নির্দেশ দেয়। শুনানি শেষে বিচারপতি সিনহা কোনও নির্দেশ দেননি। কুন্তল ঘোষ এর আগে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তদন্তে জেরা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাই হাই কোর্টের গোচরে এলে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুন্তলের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হোক। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।প্রথমে অভিষেকের জেরায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। তারপর মামলাটি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে সরিয়ে নতুন বিচারপতির নিয়োগের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। সেই নির্দেশমতো কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলাটি স্থানান্তরিত হয়।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?