Home » রাশিয়ান যুদ্ধ সাংবাদিক প্রাণ হারালেন ইউক্রেনে

রাশিয়ান যুদ্ধ সাংবাদিক প্রাণ হারালেন ইউক্রেনে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ জুলাই : ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের ৫১৫ দিন অতিবাহিত। একের পর এক প্রাণঘাতী  হামলার খবর আসছে  দুই দেশ থেকেই। প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ মানুষও। এবার ইউক্রেনে এক রাশিয়ান যুদ্ধ সাংবাদিক প্রাণ হারালেন। রাশিয়ায় আহত হলেন  এক জার্মান যুদ্ধ সাংবাদিক।রাশিয়ার আরআইএ নিউজ এজেন্সির সাংবাদিক রোস্টিস্লাভ ঝুরাভলেভ মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া।

সূত্রে প্রকাশ, শনিবার ইউক্রেনে রাশিয়ান যুদ্ধ প্রতিবেদক নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন এই বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি একটি ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারকারী ইউক্রেনীয় হামলা ছিল।নিহত রাশিয়ান সাংবাদিকের নাম রোস্টিস্লাভ ঝুরাভলেভ, তিনি ছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএর যুদ্ধ সংবাদদাতা।রাশিয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্ব জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আগুনের কবলে পড়ার পর মৃত সাংবাদিকের  তিন সহকর্মীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।এই ঘটনায় মস্কো তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্ব জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আগুনের কবলে পড়ার পর তার তিন সহকর্মীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা, সাংবাদিকের মৃত্যুর ঘটনাটিকে ইউক্রেনের “অপরাধী সন্ত্রাস” বলে অভিহিত করে নিন্দা করেছেন এবং অভিযোগ তুলেছেন, আক্রমণটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।”যারা একজন রাশিয়ান সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নৃশংস কাজের জন্য দায়ী তারা অবশ্যম্ভাবীভাবে উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করবে। দায়িত্বের সম্পূর্ণ পরিমাপ তারা ভাগ করে নেবে তারাও,যারা তাদের কিয়েভ প্রোটেগেজকে ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করেছিল,” মারিয়া জাখারোভা এমনটাই জানিয়েছেন।

রাশিয়া একদিকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে, অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে না এমনটাও নয়।একটি পৃথক ঘটনায়, জার্মান সম্প্রচারকারী ডয়চে ভেলে বলেছে যে তাদের একজন সাংবাদিক, ইয়েভজেনি শিলকো, ইউক্রেনের অন্যত্র একটি রাশিয়ান হামলায় ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে আহত হয়েছেন যা একজন ইউক্রেনীয় সৈন্য নিধনের কারণ হয়ে উঠেছিল।


বারবার বলা হয় রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে  অসামরিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জীবনের কোনো ঝুঁকি নেই।অথচ বারবার দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের বলি হচ্ছেন অসামরিক মানুষরা। বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। সূত্রের খবর,এই মাসে ইউক্রেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের সরবরাহ পাওয়ার পর ক্লাস্টার বোমাগুলি চর্চায়  রয়েছে। উল্লেখ্য,অনেক দেশ ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র গুলিকে নিষিদ্ধ করে কারণ তারা বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বোমা বর্ষণ ঘটায় এবং বেসামরিকদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ যাচ্ছে সামরিক ও অসামরিকদের। আবার কিছু বোমলেট বর্ষণের পরপরই বিস্ফোরণ হয় না ঠিকই কিন্তু নিক্ষিপ্ত হওয়ার বহু পরেও সেক্ষেত্রে বিস্ফোরণের আশঙ্কা থেকেই যায়।

যাই হোক না কেন, সাংবাদিক নিধনের ঘটনায়  ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।ইউক্রেন শুধুমাত্র বিপক্ষীয় তথা শত্রু দেশের সৈন্যদের একজোট হওয়া থেকে  অপসারণ করতে ক্লাস্টার অস্ত্র ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে,হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তার মুখপাত্র জন কিরবি এই সপ্তাহে বলেছেন যে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে  যুদ্ধাস্ত্র  যথাযথ এবং কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। যদিও চুপ করে বসে নেই রাশিয়া।রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের ডেপুটি স্পিকার কনস্ট্যান্টিন কোসাচিওভ বলেছেন, অস্ত্রের ব্যবহার “অমানবিক” এবং এর দায় ইউক্রেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ওপরই বর্তায়।নিম্নকক্ষের দলীয় নেতা লিওনিড স্লুটস্কি এটিকে “দানবীয় অপরাধ” বলে অভিহিত করেছেন।

তথাপি রাশিয়ার  প্রতিক্রিয়া কখনোই সার্বিক সত্যকে তুলে ধরছে না।  যুদ্ধে রাশিয়ার নিজস্ব ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং জাতিসংঘের দ্বারা নথিভুক্ত করা বিধি উপেক্ষা করে চলেছে। সবমিলিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের প্রাণহানি হয়ে চলেছে, একই সাথে প্রাণ হারাচ্ছেন অসামরিক মানুষরাও ।

 

About Post Author