Home » জাতিদাঙ্গার কারণে ফের গুলি চলল উত্তপ্ত মণিপুরে

জাতিদাঙ্গার কারণে ফের গুলি চলল উত্তপ্ত মণিপুরে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ জুলাইঃ প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে অগ্নিগর্ভ অবস্থা মণিপুরে। জাতিদাঙ্গার কারণে এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। আহতের সংখ্যা হাজারের বেশি। ঘরছাড়া কয়েক হাজার মানুষ। কেন্দ্রের তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। বেশ কিছু এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারও ফের গুলি চলল উত্তপ্ত মণিপুরে। এদিন ভোররাতে চূড়াচাঁদপুরের কাংভি এলাকায় গুলির লড়াই শুরু হয়। গুলির লড়াইয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ২জন। এর আগে গত মঙ্গলবারই সংঘর্ষের জেরে কাংপোকপি জেলার এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীদের দুটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই মণিপুর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন নাবালকও আছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এরই মাঝে উত্তপ্ত মণিপুরের ২ মহিলাকে নিগ্রহের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। ইতিমধ্যেই লজ্জাজনক ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনার পরই ভাইরাল হওয়া অই ভিডিয়ো দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত হুইরেম হেরোদাস মেইতি সহ ছয়জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো হচ্ছে। তাদের ঘিরে ভিড় করে রয়েছে বেশ কিছু পুরুষ। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এমনকী এই ঘটনার পরেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। গত ৪ মে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। যদিও এই ঘটনার পরই সংরক্ষণ ইস্যুতে কুকিদের সঙ্গে মেইতেইদের সংঘাত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে ১২টি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন     বাংলাদেশে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি, আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার পার

প্রসঙ্গত,গত ৩ মে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতিভুক্ত করার বিরোধিতা করছে কুকি সম্প্রদায়৷ আর এ নিয়ে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷ তারপর থেকে প্রায় তিন মাস হতে চলল৷ এই প্রথম কংগ্রেস নেতা অশান্ত মণিপুরের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে যাচ্ছেন৷ বর্তমানে মণিপুরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ৩০০ টিরও বেশি ত্রাণশিবিরে বাস করছেন৷ ৩ মে পাহাড়ে ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’ হচ্ছিল৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতির স্বীকৃতি যাতে না-দেওয়া হয়, তার প্রতিবাদে এই মিছিল হচ্ছিল৷ সেখানে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে৷ মেইতেইরা মণিপুরের জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ এবং তারা ইম্ফলের উপত্যকায় বাস করে৷ এদিকে আদিবাসী নাগা ও কুকিরা জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ৷ তারা সাধারণত পাহাড়ি জেলাগুলিতে থাকে৷ মণিপুরে সংঘর্ষের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার। হিংসার আগুনে পুড়েছে প্রায় ২৫০টি গির্জা এবং ১৭টি মন্দির।

About Post Author