সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ জুলাইঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। তারই মধ্যে এবার স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে নজর রাজভবনের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিয়োগ সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল। কিছুদিন আগে এই নিয়ে আদালতে মামলাও দায়ের হয়। তারপরেই স্বাস্থ্যভবনে নিয়োগ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুহৃতা পাল। তিনি পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনাও করেন। জানা গিয়েছে, রাজভবন থেকে এই চিঠি আসার পরই চিকিৎসক সংগঠন, ৯টি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ রাজভবনের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশকিছু খামতি রয়েছে। আর সেই অভিযোগ উঠছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকে জড়িয়ে।

এর আগেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন রাজ্যপাল। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। যা নিয়ে রাজভবনের সঙ্গে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তুমুল সংঘাত শুরু হয়।এমনকী রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে রাজ্য। সেসময় রাজ্যপালের সিদ্ধান্তেই আস্থা জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন ইংল্যান্ড মহিলা ফুটবল দলের জয়, লরেন জেমসের গোলে হারাল ডেনমার্ককে

কিছুদিন আগেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন, তাঁদের উপাচার্য হিসেবে পারিশ্রমিক ও ভাতা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। রাজ্যের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করেই ওই উপাচার্যদের নিয়োগ করা হয়েছে। কার্যত সেকারণেই রাজ্যপাল নিযুক্ত উপাচার্যদের বেতন ও ভাতা বন্ধের নির্দেশ জানিয়ে সে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই জানা গিয়েছিল। এরপর উপাচার্য নিয়োগের বৈধতা তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। তারপরই হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাজ্যপাল যে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন তা বৈধ। রাজ্যপালের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন সনৎ কুমার ঘোষ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট আইন না মেনে অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই রাজ্যপাল উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগের যে সময়সীমা তা অগ্রাহ্য করেই রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের সঙ্গে পরমর্শ করার বিষয়টি আইনসভার অন্তর্ভুক্ত একটি আইন। সেই আইনকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। রাজ্য এই উপাচার্যদের বেতন দেয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগ যদি বেআইনি হয়, তাহলে সরকার টাকা দেবে কীভাবে? সেই প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?