সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ আগস্ট: বন্যায় বিপর্যস্ত সমগ্র সারা উত্তর। বিপর্যয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না হিমাচল প্রদেশের। সোমবার সকাল থেকে হিমাচলের কুলুতে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যায় ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। সেই সঙ্গে আহত হন ৫ জন। প্রকৃতির রোষে অসহায় গোটা রাজ্য। এখনও অবধি মৃত্যু বেড়ে ১৩৫ জনে পৌঁছেছে। জলের তোড়ে নিখোঁজ অনেক। হিমাচলে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিপাশা নদী। নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়ি-ঘর। বিপর্যস্ত জনজীবন। উত্তাল বিপাশা নদীতে নিমেষে ভেসে গেছে পর্যটকদের একের পর এক গাড়ি। বাড়িঘর, দোকানপাট ভেসে গেছে। ধস নেমে রাস্তা বন্ধ। জলমগ্ন বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রবিবার থেকে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের একাধিক এলাকায় ফের শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। এর ফলে প্রবল বেগে জলস্তর বাড়ছে বিপাশা নদীর। সেই সঙ্গে একাধিক জায়গায় ধসের খবরও মিলেছে। বিপর্যস্ত একাধিক রাস্তা থেকে সেতু। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বহু এলাকা। হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে সমস্ত স্কুল, কলেজ। সেই সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে পর্যটকদের সেখানে না যাওয়ার।

প্রসঙ্গত, প্রবল বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক অঞ্চল জলমগ্ন। দিল্লির পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গুজরাটে এখনও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। গত সপ্তাহেই প্রবল বর্ষণের কারণে জম্মু-কাশ্মীরে জাতীয় সড়কে ধস নেমেছিল। যার কারণে বন্ধ হয়ে যায় অমরনাথ যাত্রা। এবার প্রবল বর্ষণের কারণে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড। জলমগ্ন হওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। ঋষিকেশের ধলওয়ারা ও খারা এলাকার জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি গৌরিকুন্ডে নেমেছে প্রবল ধস। গত বুধবার থেকেই গৌরিকুন্ডে অবিরাম বৃষ্টি চলছে। কেদারনাথ যাত্রার বেস্ট ক্যাম্প কার্যত বিধ্বস্ত। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ১২ নিহত ৯। প্রশাসনকে চরমভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পুস্কার সিং ধামি। শুধু উত্তরাখন্ড নয় আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত হবে উত্তরাখণ্ড,হিমাচল প্রদেশ, মেঘালয়ে। ইতিমধ্যেই কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন হার্দিক পান্ডিয়ার ভুলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ডুবল ভারত

উল্লেখ্য, প্রায় একমাস ধরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমাচলপ্রদেশ সহ সমগ্র উত্তর ভারত। একটানা ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে পথঘাট, ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি। ভূমিধসে ছিন্নভিন্ন পাহাড়ি এলাকা। নেই বিদ্যুৎ, জল, ইন্টারনেট পরিষেবা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সরকারি তথ্য বলছে, অন্তত ১৩০ জন মারা গেছেন এই রাজ্যে। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলার ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে প্রচুর পর্যটক আটকে পড়েছেন। স্পিতি উপত্যকার চন্দ্রতালের কাছে এখনও পর্যন্ত আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হেলিকপ্টারে করে ওই অঞ্চল পরিদর্শন করছেন সরকারি আধিকারিকরা। সেইসঙ্গে দুর্যোগ চলছে উত্তরাখণ্ডেও। একাধিক ভূমিধসের কারণে বদ্রীনাথ জাতীয় সড়ক-সহ বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে।


More Stories
আবার বাড়ল পেট্রোল, ডিজেলের দাম
সুপ্রিম রায় : বিবাহিতা মহিলাদের বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ টিকবে না
আমাদের চেয়ে ভালো গলা কাটতে কেউ জানেনা, বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি নাগাল্যান্ডের মন্ত্রীর