সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ আগস্ট : সিরিজের শেষ ও নির্ণায়ক তথা পঞ্চম টি টোয়েন্টি ম্যাচে হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বাধীন ভারতকে ৮ উইকেটে হারাল ক্যারিবিয়ান বাহিনী।৩-২ ম্যাচের ব্যবধানে সিরিজও পকেটে পুরল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর হবে না-ই বা কেন! হার্দিক পান্ডিয়ার ভারত যেন টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারবে পণ করে নেমেছিল ।তাই ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ভারতের পারফরমেন্সের গ্রাফ রাতারাতি আকাশ থেকে মাটিতে। যে ফ্লোরিডার মাটিতে একদিন আগেই ৯ উইকেটে জিতেছিল বাহিনী, সেই ফ্লোরিডার মাটিতেই হার্দিক পান্ডিয়া একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিলেন।নিজে ব্যাট ও বলে যতটা খারাপ খেললেন, তা এগারো জনের ভারতকে ডোবানোর পক্ষে যথেষ্ট ছিল।এই প্রথম হার্দিক অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি একদিনের সিরিজে হারলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই প্রথম ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়।
নির্ণায়ক পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে তুলে আট উইকেটে ১৬৫। গত ম্যাচে যে দুই ওপেনার তান্ডব দেখিয়েছিলেন, সেই যশস্বী ও গিল চূড়ান্ত ব্যর্থ হন। তবুও সিরিজে ধারাবাহিক সফল দুই ব্যাটসম্যান সূর্য কুমার যাদব ও তিলক ভার্মা চেষ্টা করেছিলেন। সূর্য করেন ৪৫ বলে ৬১ রান, তিলকের সংগ্রহ ১৮ বলে ২৭। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে ঠিক দু ওভার বাকি থাকতেই কিং, পুরান আর হোপ জয়ের লক্ষ্যে নিয়ে যান ওয়েস্টইন্ডিজকে।
অধিনায়ক হিসেবে এদিন হার্দিক বেশ কিছু এমন সিদ্ধান্ত নিলেন যা বিস্ময়কর ও অবিশ্বাস্য। এই ম্যাচে টসে জিতে তিনি ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আগের ম্যাচে ফ্লোরিডার একই পিচে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ডুবেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হার্দিক পান্ডিয়া যে তা থেকে শিক্ষা নেন নি তা পরিষ্কার। সূর্য ও তিলক আউট হওয়ার পরে সঞ্জু স্যামসন বেশিক্ষণ না টিকলেও দ্রুত গতিতে রান করেছেন। তিনি আউট হতেই হার্দিক ব্যাট হাতে নেমে ১৮ বল খেলে করেন ১৪ রান। আর এখানেই স্লো হয়ে যায় ভারতের রান তোলার গতি। যে সময় রানের গতি বাড়ানো দরকার সে সময় ৭৭ এর স্ট্রাইকরেটে অবিশ্বাস্য শম্বুক গতির ইনিংস খেলেন ভারত অধিনায়ক। ১৬৫ রান নিয়ে লড়তে নেমে ফিল্ড প্লেসিং থেকে বোলিং পরিবর্তন- সর্বত্র ভারতের পরিকল্পনার অভাব চোখে পড়তে থাকে বারবার। স্বল্প পুঁজি, অধিনায়ক নিজে দলের হয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করে বেধড়ক পিটুনি খান। তবুও তিন ওভার বল করে যান তিনি । গুরুত্বপূর্ণ তিন ওভারে উইকেট তো পান নি, উল্টে দেন ৩২ রান। পাশাপাশি এই সিরিজে ধারাবাহিকভাবে সফল বোলার মুকেশ কুমারকে দিয়ে এই ম্যাচে মাত্র এক ওভার বল করান। স্পেশালিস্ট স্পিনার অক্ষর প্যাটেলকে দিয়ে বল করানোর আগে বল হাতে দেখা যায় তিলক ভারমাকে যিনি কিশোর বয়সে একটা সময় স্পিনার হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের কথা ভাবতেন । এদিন তিনি খারাপ বল না করলেও দলে কোন বোলারের কী ভূমিকা ছিল এ ম্যাচে তা পরিষ্কার করে বোঝা যায়নি। ছন্দে না থাকা চাহালকে দিয়ে চার ওভার বল করানো হয় যেখানে লেগ স্পিনার ৫১ রান খরচ করেন। সবমিলিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার সিদ্ধান্ত হাজার রকম প্রশ্ন তুলে দিতে বাধ্য।।
আরও পড়ুন :ইস্টবেঙ্গল হারিয়ে দিল মোহনবাগানকে, একমাত্র গোলদাতা নন্দকুমার


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার