সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ আগস্ট : আজকাল ডাক্তারের কাছে যেকোনও সমস্যা নিয়ে গেলেই তিনি প্রথম পরামর্শ দিয়ে থাকেন স্ট্রেস কমাতে । মানসিক কী এমন অবস্থাকে স্ট্রেস বলা তা একবার চৰ্চা করা দরকার।স্ট্রেস এমন একটি শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা যাকিনা উদ্বেগ বা উত্তেজনা জড়িত।এই অবস্থা আঘাতজনিত অভিজ্ঞতা বা আকস্মিক জীবন পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া হিসাবে ঘটতে পারে।তবে এটি জীবনের দৈনন্দিন চাপের প্রতিক্রিয়াতেও ঘটতে পারে।
আজকের ব্যস্ত জীবনে স্ট্রেস আসতেই পারে কিন্তু একে সংবরণ করা দরকার নতুবা এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।কিছু ক্ষেত্রে,অতিরিক্ত চাপ মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতির কারণ হতে পারে। কী ভাবে রক্ষা পাবেন এই বিপর্যয় থেকে?
আধুনিক গবেষণা মতে, শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকাগত পরিকল্পনা অনুসরণ করলে রোগমুক্তি মিলতে পারে যা কিনা স্ট্রেস উপশমকারী খাবারের উপর জোর দেয়, যা সার্বিকভাবে এই সমস্যা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে এবং আরও অন্যধরণের স্বাস্থ্য জটিলতা প্রতিরোধ করতে পারে।

কিছু খাবার স্ট্রেস-লেভেল উপশম করতে এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।উদাহরণ স্বরূপ, প্রমাণিত গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খাদ্যতালিকাগত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার মানসিক চাপ উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।ফাইবার শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবারগুলির মধ্যে রয়েছে:ফল এবং শাকসবজি, মটরশুটি,আস্ত শস্যদানা,বাদাম ও মুসুর ডাল। উচ্চ ফারমেন্টেড খাদ্যদ্রব্য খুব স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে যার মধ্যে রয়েছে দই, আপেল, ভিনিগার। এছাড়াও ওমেগা 3 সমৃদ্ধ খাদ্য এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিতে পারে।মাছের মধ্যে এই খাদ্যগুণ রয়েছে। কাতলা, রুই, মৃগেল ও পুঁটি মাছ এক্ষেত্রে খাওয়া আদর্শ। আমের মত ফল বা সর্ষেও এক্ষেত্রে গ্রহণীয়।ওমেগা 3 ফ্যাটি আসিড চাপ কমাতে সাহায্য করে। কড লিভার ওয়েল ওমেগা 3 ফ্যাটি আসিড সমৃদ্ধ। এছাড়াও কোকোতে ফ্ল্যাভানল রয়েছে যা চাপ কমাতে সাহায্য করে। আপেল ও আঙ্গুর ফ্ল্যাভানল যুক্ত ফল বলেই গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে।

সবুজ চা চাপ কমাতে সাহায্য করে কারণ এর মধ্যে ক্যাফিনের মাত্রা চাপ কমানোর পক্ষে সহায়ক।পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি,গাজর, বিট, ন্যাসপাতি কলাও চাপ কমাতে সাহায্য করে।

সর্বোপরি সুষম খাদ্য দুধের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। চাপ কমাতে দুধ পান করা অত্যন্ত কার্যকরী।দুধে ট্রিপটোফান নামে পরিচিত একটি অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরকে ঘুম ভালো হওয়ার অণু সেরোটোনিন তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।দুধ পান করা প্রদাহের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। দুধের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য স্ট্রেস উপশমে সাহায্য করতে পারে। বিশ্বস্ত গবেষণা সূত্র বলছে যে, দুধসহযোগে একটি খাদ্যতালিকার পরিকল্পনা ঘুমের মান উন্নত করতে পারে।ঘুমানোর আগে এক গ্লাস উষ্ণ দুধ স্নায়ুকে প্রশমিত করতে এবং বিশ্রামের পর্যাপ্ত ঘুম এনে চাপ কমিয়ে মানুষকে তরতাজা রাখতে সাহায্য করতে পারে।।


More Stories
স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশনের পাঠশালা, পড়ুয়া ব্যবসায়ীরা শিখবেন তো?
যুবকের নতুন জীবন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের হাত ধরে
রাতারাতি আট চিকিৎসক বদলি, চিকিৎসা সংকটে ধুপগুড়িবাসী