Home » যুবকের  নতুন জীবন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের হাত ধরে

যুবকের  নতুন জীবন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের হাত ধরে

সানি রায়, সময় কলকাতা , ১৫ সেপ্টেম্বর : রাজ্যে নতুন সময়। যুবকের  নতুন জীবন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের হাত ধরে। স্বাস্থ্যসাথীতে মেলেনি চিকিৎসা, আয়ুষ্মানে বিনামূল্যে গলব্লাডার অপারেশন! বিজেপি সরকার আসতেই নতুন আশার আলো ধূপগুড়ির আদিবাসী যুবকের জীবনে।

পেটে পাথর ধরা পড়েছিল ২০২৩ সালে। অপারেশনের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। পরিযায়ী শ্রমিকের সামান্য রোজগারে সেই বিপুল খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে একাধিক জায়গায় ঘুরেও তখন মেলেনি চিকিৎসার সুযোগ। শেষমেশ পেটের যন্ত্রণা নিয়েই সংসার চালাতে ফের ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছিল ধূপগুড়ির আদিবাসী যুবক নগেন ভগতকে। আর তিন বছর পর নতুন সরকারের আমলে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গলব্লাডার অপারেশন হয়ে যেন নতুন জীবন পেলেন তিনি।
জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য খট্টিমারি এলাকার বাসিন্দা ৩৬ বছরের নগেন ভগত। অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে মুম্বইয়ে কাজ করতেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রী ও চার বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে ভাঙাচোরা বাড়িতে কোনওরকমে দিন কাটে তাঁর।

২০২৩ সালে মুম্বইয়ে কাজ করার সময় আচমকাই তীব্র পেটের ব্যথা শুরু হয় নগেনের। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর পেটে গলব্লাডারে পাথর রয়েছে এবং অপারেশনের প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসার খরচ শুনেই কার্যত মাথায় হাত পড়ে যায় পরিবারের। প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা জোগাড় করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।
নগেনের দাবি, সেই সময় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করেও তিনি পরিষেবা পাননি। অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত অপারেশন করাতে না পেরে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সাহায্যে কোনওরকমে ব্যথা সামলে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে চলে যান।
এরপর বদলে যায় পরিস্থিতি।চলতি মাসে নগেনের শারীরিক সমস্যার কথা স্থানীয় আশা কর্মীদের কাছে পৌঁছতেই তাঁরা উদ্যোগী হন। তাঁর হাতে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের পর ধূপগুড়ির গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে জলপাইগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়।

জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজের জেনারেল সার্জন চিকিৎসক সপ্তর্ষি মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের পর জলপাইগুড়ির টাচ নার্সিংহোমে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গলব্লাডারের অপারেশন হয় নগেনের। বর্তমানে তিনি বাড়িতে রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে প্রায় এক মাস বিশ্রামে থাকতে হবে।

কিন্তু অপারেশন হয়ে গেলেও নতুন চিন্তা এখন সংসার চালানো। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নগেন এখন কাজে যেতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে আবাস যোজনা থেকে শুরু করে বন্যার সময় সরকারি ত্রাণ কোনও ক্ষেত্রেই তিনি প্রত্যাশিত সরকারি সুবিধা পাননি। তবে সম্প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে তাঁর আবাস যোজনার ঘরের সার্ভে হয়েছে। তাই নতুন সরকারের কাছে এবার ঘর পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন তিনি।
নগেনের এই বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় এলাকাতেও চর্চা শুরু হয়েছে। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, গ্রামের দরিদ্র মানুষ যাতে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পান, সেই ব্যবস্থা আরও সহজ করা প্রয়োজন।
জেলা বিজেপির দাবি, নতুন সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে চিকিৎসক মহলের বক্তব্য, অতীতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে রোগী ও তাঁদের পরিবারের হয়রানির অভিযোগ শোনা যেত। বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ মিলছে। তবে নগেন ভগতের কাছে রাজনীতি নয়, একটি অপারেশনই এখন তাঁর কাছে নতুন করে বাঁচার সুযোগ।দীর্ঘদিনের পেটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলেছে, এবার সুস্থ হয়ে ফের কাজে ফিরতে চান তিনি এটাই তাঁর একমাত্র আশা।

About Post Author