Home » নীলগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের দেখতে বারাসাত হাসপাতালে গেলেন রাজ্যপাল

নীলগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের দেখতে বারাসাত হাসপাতালে গেলেন রাজ্যপাল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ আগস্ট: রবিবার সকালে নীলগঞ্জ যেন আস্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়।দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত একাধিক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এদিন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গোটা এলাকা। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে চলে দেহ উদ্ধারের কাজ। আহতদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি বারাসাত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকল বাহিনী। বিস্ফোরণের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এদিন বিস্ফোরণের খবর পেয়েই উত্তরবঙ্গ সফর সেরে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সোজা বারাসাত সংলগ্ন নীলগঞ্জে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের সঙ্গে এদিন ছিলেন বারাসতের পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। তিনি বিস্ফোরণের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেন রাজ্যপালকে। উপস্থিত থাকা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এদিন রাজ্যপালের কাছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে স্থানীয় মহিলারা জানান, প্রশাসনের মদতে গোটা এলাকায় একাধিক অবৈধ বাজি কারখানা রয়েছে। সব শুনে রাজ্যপাল বলেন, ‘এত মৃত্যু সত্যি দুর্ভাগ্যজনক।’ এরপরই রাজ্যপাল আহতদের সঙ্গে দেখা করতে সোজা চলে যান বারাসাত হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে কথা বলেন আহতদের সঙ্গে। গোটা ঘটনায় এলাকাবাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দেন রাজ্যপাল।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদিন বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিআইডির টিম। প্রাথমিক তদন্তের পর ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় আরও অনেক বেআইনি বাজি কারখানার হদিশ পেয়েছে সিআইডি। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বেআইনি বিস্ফোরক মজুত থাকার প্রমাণ মিলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত সংলগ্ন নীলগঞ্জের মোচপোল এলাকার বেআইনি ওই বাজি কারখানায় শব্দবাজি তৈরি হত। রবিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে নীলগঞ্জের মোচপোল। মুহূর্তের মধ্যে নীলগঞ্জ যেন আস্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায় ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। জানা গিয়েছে,বেআইনি ওই বাজি তৈরির কারখানায় প্রচুর পরিমাণে বাজির মশলা মজুত থাকায় বিস্ফোরণে পুরোপুরি উড়ে গিয়েছে কারখানাটি। রাত পর্যন্ত চলে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। এদিন বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাশের বাড়ির টালির চাল, পেয়ারা গাছে আটকে যায় একাধিক দেহ। মাটির সঙ্গে মিশে যায় পাকা বাড়ি। এমনকী আশেপাশের বেশকয়েকটি বাড়িও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব়্যাফ নামানো হয়।

আরও পড়ুন     মোহনবাগান প্রথমবার মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়ে ডুরান্ড সেমিফাইনালে

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের খবর চাউর হতেই ঘটানাস্থলে পৌঁছিয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে রমরমিয়ে চলত বেআইনি বাজি কারখানাটি? তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনায় সামসুর আলি এবং আজিবর রহমানের নাম উঠে আসছে। তাদের বাড়ির গুদাম থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর শব্দবাজি। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দা সামসুর আলি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, দত্তপুকুর থানার পুলিশ ও রাজ্যের বেশ কিছু মন্ত্রীর মদতে চলত বাজি কারখানাটি। এমনকী রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও স্থানীয়দের সেই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি কিছুই জানতেন না। গোটা ঘটনায় দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

About Post Author