Home » লিবিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, প্রাণ গেল প্রায় ৬০০০ মানুষের

লিবিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, প্রাণ গেল প্রায় ৬০০০ মানুষের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ সেপ্টেম্বর: ক্রমেই রুক্ষ আকার ধারণ করছে প্রকৃতি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের গ্রাসে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া। সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর অনুসারে, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী লিবিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ইতিমধ্যে প্রাণহানি হয়েছে প্রায় ছয় হাজারের বেশি মানুষের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সেদেশের প্রশাসন। দেশটির অনেকটা অংশ এখনও রয়েছে জলের তলায়।

 

গত রবিবার ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল আছড়ে পড়ে ভূমধ্যসাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলে। ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণে অবস্থিত হওয়ায় এই দেশের উপর সেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পরে। ঘূর্ণিঝড়ের পর বন্যা দেখা দেয়। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলের ডেরনা শহর। প্রায় দেড়লক্ষ জনবসতি সম্পন্ন ডেরনা শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। রাস্তার ওপর কিছু গাড়ি উল্টে রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই অঞ্চলের প্রায় ২৫০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। অনেক মানুষ ভিটে হারা হয়ে বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে অন্যত্র। এই শহরের দুটি বাঁধ ও চারটি সেতু ভেঙে পড়েছে। বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষজনকে রীতিমত লড়াই করে উদ্ধার করছে উদ্ধারকারী দলগুলি। লিবিয়াকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ মিশর। এছাড়াও কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইটালি, জার্মানি, এবং তুরস্ক-সহ বিভিন্ন দেশগুলি প্রয়োজনে সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন   তৃতীয় কন্যাসন্তান! ৮ দিনের সদ্যোজাতকে মুখে তামাক গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করল বাবা

পূর্ব লিবিয়ার মন্ত্রী হিচেম চকিওয়াত জানিয়েছেন, “সমুদ্র, উপত্যকা, বিল্ডিংয়ের নিচে সর্বত্র মানুষের দেহাবশেষ পড়ে রয়েছে। যদি বলি যে দেশটির ২৫ শতাংশ ভেসে গিয়েছে, তাহলে একটুও অত্যুক্তি করা হবে না। অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।” ওই দেশের স্থানীয় চ্যানেল জানিয়েছে, পূর্ব লিবিয়ার প্রশাসকের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন মৃতের সংখ্যা ৫০০০ ছাড়িয়েছে। লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনঘাজিও এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রেড ক্রস সোসাইটির প্রধান তামির রামদান জানিয়েছেন, “আমরা আমাদের স্বাধীন সূত্রের মারফত জানতে পেরেছি নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে। মানবিক বিষয়ক সমন্বয়ের জন্য জাতিসংঘের কার্যালয় জানিয়েছে, যে জরুরী প্রতিক্রিয়া দলগুলি ইতিমধ্যে সাহায্য করার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে।

About Post Author