সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ অক্টোবর: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার ইডির স্ক্যানারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। এবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে তলব করল ইডি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে শুক্রবার এই মামলার শুনানি ছিল। যদিও এই তলবের বিরোধিতা করে রক্ষাকবচ চেয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু, বিচারপতি রক্ষাকবচ দেননি। ইডির বিচারপতিকে সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বলেন, ‘অভিষেক ওদের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। অভিষেককে কোনও ভাবে সামলাতে পারছে না বলে তাঁর স্ত্রী, তাঁর বাবা-মা, তাঁর পিএ – সবাইকে তলব করছে। এসব ষড়যন্ত্র। তৃণমূলকে চাপে রাখার চেষ্টা। তবে এভাবে তলব করে কোনও লাভ হবে না।’ এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিকবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছিল ইডি। তিনি সমস্ত নথিপত্র নিয়ে হাজিরাও দিয়েছেন। এমনকী অভিষেকের মা-বাবাকেও তলব করা হয়েছিল গত সপ্তাহে। যদিও তাঁরা কেউ ইডি দফতরে হাজিরা দেননি চলতি সপ্তাহে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। গত বৃহস্পতিবারই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সম্পত্তি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়ে আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল ইডিকে। ইডির তদন্তের গতি নিয়েও এদিন বিচারপতি আদালতে প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে ১০ অক্টোবরের মধ্যে অভিষেককে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানির সমস্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। এসবের মাঝেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিষেককে তলব করলে আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর হাইকোর্টের নির্দেশেই মঙ্গলবার অর্থাৎ আজ সমস্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অভিষেককে। ১২ অক্টোবরের মধ্যে ওই নথি স্ক্রুটিনি করতে হবে। সূত্রের খবর, তারপর তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেককে সমন পাঠাতে পারবে ইডি।

আরও পড়ুন ৫৪ ঘণ্টা অভিযানের পর রেশন দুর্নীতিতে আটক বাকিবুর রহমান
যদিও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা এবং অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী বিচারপতি সিনহা নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে তদন্তকারী অফিসার মিথিলেশ কুমার মিশ্রকে অবিলম্বে এই তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, মিথিলেশ মিশ্রকে বাংলায় কোনও তদন্তে নিয়োগ করা যাবে না। এসবের মাঝেই বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ ইডিকে বেঁধে দিয়েছিল তদন্তের সময়সীমা। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেককে তলব করেছিল ইডি। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির দিতে বলেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের