Home » রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে বাকিবুর রহমানের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেল ইডি

রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে বাকিবুর রহমানের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেল ইডি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ অক্টোবর: পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের সূত্র ধরেই রেশন বণ্টনে বেলাগাম দুর্নীতির খোঁজ পেয়েছে ইডি। পুরনিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে যোগসূত্র থাকতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সেই সূত্র ধরেই বাকিবুর রহমানের (Bakibur Rahaman ) পাঁচটি চালকল এবং আটাকলের খোঁজ মেলে। এরপরই বাকিবুরের বাগুইআটি কৈখালির আবাসনে হানা দেয় ইডি( ED)। তারপরই শুরু হয় তল্লাশি। ৫৪ ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশির পর অবশেষে রেশন দুর্নীতিতে আটক করা হয় বাকিবুর রহমানকে। সেইসঙ্গে বাকিবুরের ফ্ল্যাট থেকে বহু নথি বাজেয়াপ্ত করে ইডি। ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বিভিন্ন ব্যবসা এবং বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে ইডি। কলকাতা থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরুতে রয়েছে একাধিক রেস্তোরাঁ,পানশালা। রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উৎস জানতেই তেড়েফুঁড়ে নেমেছে ইডি। রেশন সামগ্রী বিক্রির গোটা কারবার চেন সিস্টেমে চলত বলেই দাবি ইডির।

রেশন দুর্নীতি মামলার তল্লাশিতে ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি কালো ডায়েরি। সেই ডায়েরির সূত্র ধরেই ইডির হাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। ইডির দাবি, প্রায় ১০ বছর ধরে রেশনের আটা নিয়ে দুর্নীতি চলছিল। সরকারি গণবণ্টন ব্যবস্থায় কত পরিমাণ আটা কত দামে কেনা হয়েছে, তা উদ্ধার হওয়া ডায়েরি থেকে জানতে পেরেছে ইডি। এছাড়াও বাকিবুর রহমানের রাইস মিল থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের ১০৯টি স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। যদিও বাকিবুরের বিরুদ্ধে রেশনের আটা নিয়ে বেলাগাম দুর্নীতির প্রমাণ আগেই এসেছিল পুলিশের হাতে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নদিয়ার কোতয়ালি, ধুবুলিয়া, নবদ্বীপ এই ৩টি থানায় রেশনের আটা দুর্নীতি নিয়ে মামলাও রুজু করেছিল রাজ্য পুলিশ। এরপরই প্রচুর রেশন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। এসবের পরেও রমরমিয়ে রেশনের সামগ্রী কালোবাজারি হত বলেই দাবি ইডির।

আরও পড়ুন   কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ থেকেই খান এই খাবার, দূরে থাকবে বহু ঘাতক রোগ

উল্লেখ্য, শুক্রবার দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে অসহযোগিতার কারণে কৈখালির ফ্ল্যাট থেকেই বাকিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে ইডি। এরপর কৈখালি থেকে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় বাকিবুরকে। গত ১১ অক্টোবর সকাল বেলায় ইডি আধিকারিকরা পৌঁছয় বাকিবুর রহমানের কৈখালির ফ্ল্যাটে। তারপর থেকেই তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে ইডি আধিকারিকরা। মূলত রেশন বন্টন দুর্নীতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলেই জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, এই বাকিবুরের হাত ধরেই ‘রেশন দুর্নীতির’ বহু কালো টাকা সাদা হয়েছে। সেইসঙ্গে একাধিক শেল কোম্পানি থেকে একাধিক ব্যবসার হদিশ পেয়েছে ইডি। শপিং মল, নার্সিংহোমেও ওই কালো টাকা ঢুকেছে বলেই দাবি ইডির।

About Post Author