সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ নভেম্বর: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বিপুল সম্পত্তির পরিমাণ দেখে চক্ষু চড়ক গাছ ইডির। জানা গিয়েছে বাকিবুরের জমির পরিমাণ দেড় হাজার কাঠারও বেশি। এছাড়াও সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের ১০টি ফ্ল্যাটও রয়েছে তার। এমনকী বিদেশেও রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। রকেটের গতিতে যেন বাকিবুরের উত্থান। এসবের মাঝেই এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল ইডির হাতে। জানা গিয়েছে,রেশন দুর্নীতির বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করতে অভিনব পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছিল বাকিবুর। রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুর রহমান নিজেই তৈরি করেছিল ভুয়ো কৃষক সংগঠন। এই ভুয়ো কৃষক সংগঠন তৈরি কোর্টে তাঁকে মদত জুগিয়েছিল বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ইডি সূত্রে খবর, রেশন বন্টন দুর্নীতির অন্যকতম অভিযুক্ত বাকিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই ভুয়ো কৃষক সংগঠন ‘ফার্মারস ফোরাম’-নামে পরিচিত। ইতিমধ্যেই এই সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নামের একটি তালিকা তৈরি করেছে ইডি।
আরও পড়ুন রেশন দুর্নীতি মামলায় এবার মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ অভিজিৎ-বালুকে
ইতিমধ্যেই বসিরহাটের বাদুড়িয়া পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে পাড়ায় ধৃত বাকিবুর রহমানের ২১০ কাঠা জমির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এলাকাবাসীদের দাবি, কম পয়সায় এই জমি পুর নাগরিকদের কাছ থেকে লিখে নেওয়া হয়েছিল বেশ কিছু বছর আগে। সেখানে একটি ধানের গোডাউন তৈরি হয়েছিল। যদিও বেশ কয়েক মাস বন্ধ আছে সেটি। এই গোডাউনের মালিক কে? কেউ কেউ বলছেন এই জমি বাকিবুর রহমানের। এখনও পর্যন্ত তা স্থানীয়দের কাছে অজানা। যদিও এটা যে বাকিবুরের বেআইনি সম্পত্তি এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কোন উপযুক্ত নথি দেখাতে পারিনি। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর আগে জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে জমি লিখিয়ে নেওয়া হয়। প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে কোনো কথা বলতে পারিনি এলাকাবাসীরা। এই বেআইনি জমির এক সময়ের মালিক রিতা ঠাকুর জানিয়েছেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে এই জমি দখল করা হয়েছিল।’ বেশ কয়েকবার বাকিবুরকে এই গোডাউনে আসতেও দেখে এলাকাবাসীরা।

যদিও রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই বেশকিছু তথ্য জোগাড় করেছে ইডি। সূত্রের খবর, রেশন দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করার জন্য সিনেমা প্রযোজনা করেছিলেন বাকিবুর রহমান। বাকিবুর রহমানের প্রযোজনায় ২০১৪ সালে তৈরি হয় বাংলা সিনেমা ‘ম্যানগ্রোভ’। এই সিনেমাতে অভিনয় করেছিলেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। যিনি এখন প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। এই ছবিতে অর্পিতা ছাড়াও অভিনয় করেছেন, দোলন রায়, নাইজেল ও মুম্বইয়ের রাখি সাওয়ান্ত। রেশন দুর্নীতির মোটা টাকা সিনেমা প্রযোজনার জন্য বিনিয়োগ করেছিলেন রাকিবুর। এই সিনেমা তৈরি করতে যে একটা বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। বিশেষ করে রাখি সাবন্তের মত শিল্পীকে অভিনয় করানো হয়েছে এই সিনেমায়।


More Stories
বাড়ি রং করাও ধ*র্ষণ! ঋতব্রতকে নিয়ে ধর্ষ*কের নতুন সংজ্ঞা মদনের
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত