Home » রেশন দুর্নীতি মামালায় এবার বনগাঁয় আটাকলের মালিকের বাড়িতে ইডির হানা

রেশন দুর্নীতি মামালায় এবার বনগাঁয় আটাকলের মালিকের বাড়িতে ইডির হানা

সময় কলকাতা ডেস্ক,৪ নভেম্বর: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার রেশন দুর্নীতির তদন্তে গতি বাড়াতে শনিবার রাজ্যের মোট সাত জায়গায় হানা দিয়েছে ইডির অফিসাররা। এদিন সাত সকালে বনগাঁয় রাধাকৃষ্ণ আটাকল ও ওই মিলের মালিকের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসাররা। এই মিলের মালিকের সঙ্গে খাদ্য দফতরের কী সূত্র রয়েছে, তা খুঁজে বের করতেই হানা দিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই রাধাকৃষ্ণ আটাকলের মালিকের নাম মন্টু দাস। রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে এই রাধাকৃষ্ণ আটাকলের মালিকের খুব ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেই তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে ইডি। জানা গিয়েছে, রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং বাকিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের পরেই এই আটাকলের সম্পর্কে জানতে পারেন ইডির তদন্তকারী অফিসাররা। সেই সূত্র ধরেই এদিন সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানদের নিয়ে বনগাঁর আটাকলে হানা দেয় ইডি। 

আরও পড়ুন    চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম হালদারের প্রয়াণ

প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বিপুল সম্পত্তির পরিমাণ দেখে চক্ষু চড়ক গাছ ইডির। জানা গিয়েছে বাকিবুরের জমির পরিমাণ দেড় হাজার কাঠারও বেশি। এছাড়াও সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের ১০টি ফ্ল্যাটও রয়েছে তার। এমনকী বিদেশেও রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। রকেটের গতিতে যেন বাকিবুরের উত্থান। এসবের মাঝেই এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল ইডির হাতে। জানা গিয়েছে,রেশন দুর্নীতির বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করতে অভিনব পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছিল বাকিবুর। রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুর রহমান নিজেই তৈরি করেছিল ভুয়ো কৃষক সংগঠন। এই ভুয়ো কৃষক সংগঠন তৈরি কোর্টে তাঁকে মদত জুগিয়েছিল বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ইডি সূত্রে খবর, রেশন বন্টন দুর্নীতির অন্যকতম অভিযুক্ত বাকিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই ভুয়ো কৃষক সংগঠন ‘ফার্মারস ফোরাম’-নামে পরিচিত। ইতিমধ্যেই এই সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নামের একটি তালিকা তৈরি করেছে ইডি।

আরও পড়ুন   গাজায় বৃহত্তম হাসপাতালের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের কনভয়ে ইজরায়েলের হামলা, নিহত বহু মানুষ

ইতিমধ্যেই বসিরহাটের বাদুড়িয়া পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে পাড়ায় ধৃত বাকিবুর রহমানের ২১০ কাঠা জমির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এলাকাবাসীদের দাবি, কম পয়সায় এই জমি পুর নাগরিকদের কাছ থেকে লিখে নেওয়া হয়েছিল বেশ কিছু বছর আগে। সেখানে একটি ধানের গোডাউন তৈরি হয়েছিল। যদিও বেশ কয়েক মাস বন্ধ আছে সেটি। এই গোডাউনের মালিক কে? কেউ কেউ বলছেন এই জমি বাকিবুর রহমানের। এখনও পর্যন্ত তা স্থানীয়দের কাছে অজানা। যদিও এটা যে বাকিবুরের বেআইনি সম্পত্তি এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কোন উপযুক্ত নথি দেখাতে পারিনি। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর আগে জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে জমি লিখিয়ে নেওয়া হয়। প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে কোনো কথা বলতে পারিনি এলাকাবাসীরা। এই বেআইনি জমির এক সময়ের মালিক রিতা ঠাকুর জানিয়েছেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে এই জমি দখল করা হয়েছিল।’ বেশ কয়েকবার বাকিবুরকে এই গোডাউনে আসতেও দেখে এলাকাবাসীরা।

About Post Author