সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ নভেম্বর: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতি মামলায় গত শুক্রবারই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই খাদ্য দফতরের অফিসারদের লিস্ট তৈরি করেছে ইডি। সূত্রের খবর, বনমন্ত্রীর প্রাক্তন এবং বর্তমান আপ্ত সহায়কদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই সকল অফিসারদের নাম পেয়েছে ইডি। এবার ইডির নজরে মেরুন ডায়েরি। ইডির তল্লাশি অভিযানের সময় বনমন্ত্রী্র প্রাক্তন আপ্তসহায়ক অভিজিৎ দাসের বাড়ি থেকে একটি মেরুন ডায়েরি পাওয়া গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার বনমন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক অভিজিৎ দাসকে তলব করা হয়েছে সিজিও কমপ্লেক্সে। জানা গিয়েছে, অভিজিৎ দাসের সঙ্গে মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
আরও পড়ুন পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের ইডি দফতরে কামারহাটি পুরসভার চিফ ইঞ্জিনিয়ার
রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নথি তদন্তকারী অফিসারদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। সেই তালিকায় অভিজিৎ দাসের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধার হওয়া মেরুন ডায়েরিও রয়েছে। সেখানে প্রচুর লেনদেনের হিসেব লেখা রয়েছে। কোন তারিখে, কার থেকে কত টাকা এসেছে, কোথায় সেই টাকা জমা হয়েছে, সেই সব তথ্য উদ্ধার হওয়া ওই ডায়েরিতে তুলে রাখা আছে বলে ইডি সূত্রের দাবি। ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা দুটি কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। দু’টি কোম্পানি বাঁকুড়ার ঠিকানায় রেজিস্টার্ড বলেই জানা গিয়েছে। শুক্রবারই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আপ্তসহায়ক অমিত ইডিকে জানিয়েছিলেন, ওই সংস্থা দুটি থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নির্দেশে ২০ কোটি টাকা সরানো হয়েছিল। এরপরই দুটি কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ কোটি টাকা ফ্রিজ করে ইডি। রেশন দুর্নীতির তদন্তে গতি বাড়াতে ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ২০টিরও বেশি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এই মোবাইলগুলি যেমন বনমন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের রয়েছে, তেমনই বাকিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠদেরও মোবাইলও রয়েছে।
আরও পড়ুন নিজের পর্যবেক্ষণ শক্তি যাচাই করতে চান? ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বের করুন
ইতিমধ্যেই ওই মোবাইল ডি-কোড করে তথ্যের সন্ধান শুরু করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এই মোবাইলগুলির মধ্যেই রেশন দুর্নীতির সমস্ত তথ্য লুকিয়ে রয়েছে বলেই দাবি ইডির। এদিকে, গত শনিবারই রেশন বণ্টন দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়া বাকিবুর রহমানের ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়েছে। যেহেতু এখনও মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে জেরা করতে পারেনি ইডি, তাই তদন্তের স্বার্থে এখনও বাকিবুরকেও জেরার প্রয়োজনীতা রয়েছে বলে মনে করেছে ইডি আধিকারিকরা। তাই জেলে বাকিবুর রহমানকে জেরা করার অনুমতি চেয়েছে ইডি। সেই আবেদন মঞ্জুরও করে আদালত। সূত্রের খবর, জেল হেফাজতে গিয়ে বাকিবুরকে জেরা করতে হবে সেই কারণে তাঁর বয়ান রেকর্ড করারও প্রয়োজন আছে। আর বয়ান রেকর্ড করতে গেলে ল্যাপটপ সহ ডিজিটাল ডিভাইসের প্রয়োজন। এই সকল ডিজিটাল ডিভাইস ও প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ জেলে নিয়ে যেতে পারবেন গোয়েন্দারা।


More Stories
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
কেক কেটে ঈদ উদযাপন
আরেকটি পদত্যাগ, এবার শান্তনু সেন