সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ নভেম্বরঃ রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে নাম জড়ানোর পরই ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আদালতের নির্দেশে প্রেসিডেন্সি জেলে ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার জেলে অসুস্থ হয়ে পড়লেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এদিন অসুস্থতার কারণে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে তাঁকে জেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা পরীক্ষা। এরপর তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে কার্ডিয়োলজি এমার্জেন্সি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই দীর্ঘক্ষণ চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এদিকে, গত ১৬ নভেম্বর নিম্ন আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল জ্যোতিপ্রিয়ের। অসুস্থতার কারণে তাঁকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির করানো হয়েছিল। শুনানির পরের দিনই প্রেসিডেন্সি জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন জ্যোতিপ্রিয়। কাশি, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাঁকে কৃত্রিম অক্সিজেন দিতে হয়। মঙ্গলবার ফের অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি।
আরও পড়ুন মমতার আমলেই বাংলায় ২০ হাজার কোটি বিনিয়োগের আশ্বাস মুকেশ আম্বানির
প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে ইডি জানতে পেরেছে রাজ্যের একাধিক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির চাবিকাঠি রয়েছে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের হাতে। সমিতিগুলির আইডি ও পাসওয়ার্ড জানতেন বাকিবুর! এমনকী সেগুলির নিয়ন্ত্রণও ছিল এই ব্যবসায়ীর হাতে। সেই সুবিধা নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভুয়ো কৃষকদের নাম ঢোকানো হত সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির তালিকায়। এই পদ্ধতিতে রেশন বণ্টনের নামে কোটি কোটি টাকা তছরূপ করেছেন বাকিবুর ও তাঁর সঙ্গীরা, এমনই অভিযোগ ইডির। সূত্রের খবর, ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর একাধিক চালকল ও গমকলে তল্লাশি চালানো হয়। ইডির হাতে উঠে আসে, বাকিবুরের প্রত্যেকটি চালকলই রাজ্য সরকারের নথিভুক্ত ছিল।
এই মিলগুলিতে আসত রেশনের চাল। বিপুল পরিমাণের সেই চাল সরিয়ে বাজারে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হত। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় বাকিবুরের একটি চালকলে তল্লাশি চালিয়ে ১০৯টি স্ট্যাম্প ও সিল উদ্ধার হয়। সেগুলির মধ্যে যেমন খাদ্য দফতরের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সরকারি সংস্থার আধিকারিকদের স্ট্যাম্প রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকটি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির স্ট্যাম্প আর সিল। ওই সমিতিগুলি নিয়ে ইডি তদন্তে নামে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্যাপারে সমিতির কয়েকজন কর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বেশ কিছু তথ্য ইডির পক্ষ থেকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। কাদের মদতে বাকিবুর এত ক্ষমতার অধিকারী, তা জানার চেষ্টা করছেন ইডির তদন্তকারীরা। এই দুর্নীতিতে ধৃত প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেও জেরা করা হচ্ছে।


More Stories
অভিষেকের দুয়ারে ইডি
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা