সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ ডিসেম্বর: ফিরছে আতঙ্ক! বড়দিনের আগেই ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনার গ্রাফ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সব রাজ্যের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে দিল্লি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব সুধাংশু পন্থ সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠি পাঠিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৩৪০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের হদিস মিলেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য৪মন্ত্রক স্ট্যা ন্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) জারি করলেও রাজ্যের তরফে এখনও তেমন কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে এখনও নতুন ভ্যানরিয়েন্ট জেএন.১-এ আক্রান্তেরও সন্ধান মেলেনি। এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্বাস্থ্যভসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, ‘ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যনমন্ত্রকের সঙ্গে বুধবার আলোচনা করবে সব রাজ্যে। ইতিমধ্যেই এসওপি তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য ভবনের দাবি, এদিন পর্যন্ত রাজ্যে কোনও করোনা আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি।
আরও পড়ুন সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের বাড়িতে আয়কর হানা
তবে, বেলেঘাটা আইডি এবং এমআর বাঙুরের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। দুটি হাসপাতালে ৩৩ ও ৩০টি শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকমন্ত্রকের নির্দেশে দুটি হাসপাতালেই মকড্রিল হয়েছে। সিসিইউ, আইসিইউ শয্যা , মেডিক্যা ল অক্সিজেন পাইপ লাইন পরীক্ষা, সবকিছুরই ব্যাবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে করোনা সংক্রান্ত সংশোধিত গাইডলাইন মেনে চলার উপর প্রতিটি রাজ্যকে জোর দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব রাজ্যের জন্য কোভিডের উপর নজরদারি রাখতে আট দফা নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। কেরলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যার গ্রাফ সামান্য বেড়ে গিয়েছে। কেরলে করোনার নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গিয়েছে। যার নাম জেএন.১। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। রাজ্যগুলিকে জানানো হয়েছে, সামনেই আরও একটি উৎসবের মরশুম। বড়দিন। সেক্ষেত্রে রোগের সংক্রমণ রুখতে জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে রাজ্যগুলিকে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতির উপর নজরদারির যে গাইডলাইন রয়েছে, তা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো কোনও অসুস্থতা বা শ্বাসজনিত কোনও অসুস্থতার উপর জেলাস্তরে নজরদারি আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য নিয়মিতভাবে ইন্টিগ্রেটেড হেল্থ ইনফরমেশন পোর্টালে তোলার জন্য বলা হয়েছে। জোর দিতে বলা কোভিড পরীক্ষার গাইডলাইনের উপরেও। জেলাস্তরে যাতে নির্দিষ্ট অনুমাতে আরটি-পিসিআর ও অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়, সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে আরটিপিসিআর পরীক্ষার উপর। কোনও নমুনায় করোনার সংক্রমণ ধরা পড়লে, সেটি সঙ্গে সঙ্গে জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর জন্য বলা হয়েছে। যাতে কোনও নতুন ভ্যারিয়েন্ট ঢুকে পড়েছে কি না, তা আগে ভাগে শনাক্ত করা যায়। প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে কি না, তাও দেখে নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্র।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি