সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ ডিসেম্বর: নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। বৃহস্পতিবার সাত সকালে শহরের মোট নয় জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। এর মধ্যে রয়েছে বড়বাজার, মানিকতলা, ক্যানিং স্ট্রিট, নিউ আলিপুরও। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত আরও তথ্য হাতে পাওয়ার জন্যই এদিন সকালে এই জায়গাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। এদিন ক্যানিং স্ট্রিটের একটি সংস্থার অফিসে তল্লাশিতে ইডি। গোটা অফিসটি ঘিরে ফেলেছেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। জানা যাচ্ছে, রাজেশ দোশী নামে এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্টের অফিসে হানা দিয়েছেন কর্তারা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তেই মূলত ক্যানিং স্ট্রিটের এই সংস্থার অফিসে হানা দিয়েছেন গোয়েন্দারা। তবে সাত সকালে আসায় সংস্থার গেট বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। মূলত, এই অফিসে থাকা নথিপত্রগুলিই ঘেঁটে দেখছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন গুপ্ত যুগের জটিলেশ্বর মন্দিরের ঐতিহ্যে অবহেলা
তবে, শুধু ক্যানিং স্ট্রিটেই নয়, একই সঙ্গে কাঁকুড়গাছি-মানিকতলা রোডে অবস্থিত মনিকলা অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছেছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। সুবোধ সাচার এবং অশোক সাধুকা নামে দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়েছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী জানতে পারা গিয়েছে, অশোক সাধুকা বাড়িতেই রয়েছেন। তবে নিয়োগ দুর্নীতিতে কীভাবে জড়িয়ে পড়লেন তা জানার চেষ্টা করছে ইডি। এদিকে, বাইপাসের ধারে বেঙ্গল কেমিক্যালসেও হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। কিছুদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী বিধাননগর পুরসভার তৃণমূলের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। দেবরাজ বিধাননগর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। পাশাপাশি যুব তৃণমূলের দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদেও রয়েছেন তিনি।
ওইদিন রাজারহাট রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর বেলা ১টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যায় দেবরাজকে। তাঁর সঙ্গে সিবিআই-এর আধিকারিকরাও। রাজারহাটের বাড়ি থেকে বেরনোর সময়ে দেবরাজ বলেন, ‘কোর্টের অর্ডারে এই রেইড হয়েছে। আমার আরেকটা রেসিডেন্স রয়েছে। সেখানে আমি যাচ্ছি।’ একইসঙ্গে কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তর বাড়িতেও হানা দেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি। বাপ্পাদিত্য কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদে রয়েছেন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত এই বাপ্পাদিত্য। এদিন তৃণমূল কাউন্সিলের পাটুলির বাড়িতে হাজির হন কেন্দ্রীয় বাহিনীর দল। প্রায় ২০ মিনিট পর তৃণমূল কাউন্সিলর নিজেই দরজা খুলে সিবিআই আধিকারিকদের ভিতরে নিয়ে যান। তৃণমূলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মানসপুত্র হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। পার্থর হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে আসা। এরপরই কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর হন।


More Stories
স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ, সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী
অভিষেকের দুয়ারে ইডি
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর