Home » মালদার নাবালিকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরব রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন

মালদার নাবালিকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরব রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ ফেব্রুয়ারিঃ মালদার নাবালিকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশি তদন্তে সন্তুষ্ট নয় জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন। রবিবার মৃত ওই নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন জাতীয় সুরক্ষা কমিশন সহ রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত হন ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। নাবালিকা খুনের ঘটনাতে উদ্বিগ্ন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যা যশবন্ত শ্রীমানি। পুলিশি তদন্তের ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের। পরিবারের কাছ থেকে সমস্ত ঘটনা শুনে কমিশনের অনুমান, এই ঘটনায় কমপক্ষে দু-তিনজন জড়িত রয়েছে। কেন তা নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে না, কাদের তদন্ত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে? সেই প্রশ্নই তুলেছেন জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন। জাতীয় কমিশনের বক্তব্য, নাবালিকা খুন কাণ্ডে পুলিশি তদন্তে আশ্বাস নেই। তদন্তে গাফিলতি করছে পুলিশ। ২৯ তারিখ নিখোঁজ হয়েছিল নাবালিকা। তিন দিন সময় লেগে গেল পুলিশকে।

আরও পড়ুন  Australia West Indies: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে হার ওয়েস্ট ইন্ডিজের

অন্যদিকে, অভিযুক্তকে পরিবারের সদস্যরাই পাকড়াও করে পুলিশকে তুলে দিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িয়ে রয়েছে। এই ঘটনা ঘটার সময় মুখ্যমন্ত্রী মালদাতেই ছিলেন। অথচ তিনি একটি কথাও বললেন না এই বিষয়ে। ওই নাবালিকার সঙ্গে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে কিনা সেই বিষয়েও পুলিশ স্পষ্ট করে এখনো কোনও রিপোর্ট বলতে পারছে না। এদিন যশবন্ত শ্রীমানি বলেন, ‘অভিযুক্ত সুনু কেশরী তদন্তে পুলিশের সঙ্গে ঠিক ভাবে সহায়তা করছে না। আমরা একজন মনোরোগবিদের সাহায্য নিতে বলেছি। এছাড়াও বিচার ব্যবস্থাকে আরো কঠোর হতে হবে। তা নাহলে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। শিশুসুরক্ষা কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সমস্ত জায়গাতে আমরা আমাদের রিপোর্ট পাঠাব।’ অন্যদিকে, মালদায় নাবালিকা খুনে যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল সেই অস্ত্র এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও ধর্ষণের কোনও রকম প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার মালদার ইংরেজ বাজার থানা এলাকার সামনে থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই ছাত্রী। সে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। ঘটনার তিনদিন কেটে গেলেও ওই ছাত্রীর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এহেন পরিস্থিতিতে ইংরেজ বাজার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবারের লোকজন। তবে,সন্ধান চালিয়েও ওই ছাত্রীর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর বৃহস্পতিবার ইংরেজ বাজার থেকে কয়েক কিমি দূরে অবস্থিত একটি ঝোঁপ থেকে ওই ছাত্রীর মুণ্ডহীন দেহ খুঁজে পাওয়া যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকাজুড়ে। যদিও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই নাবালিকার পাশের বাড়ির সোনু কেশরী নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ইংরেজ বাজার থানার পুলিশ। অন্যদিকে,বিষয়টি জানাজানি হতেই ওই যুবকের বাড়িতে হামলা চালায় স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়, এমনকী আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়।

About Post Author