সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ ফেব্রুয়ারিঃ পিকনিক সেরে বাড়ি ফেরার পথে রূপনারায়ণে নৌকাডুবি। নিখোঁজ একই পরিবারের শিশুসহ কমপক্ষে পাঁচ জন সদস্য। নিখোঁজদের মধ্যে চারজনের বাড়ি হাওড়া এবং একজনের বাড়ি বাগনানের মানকুর। বৃহস্পতিবার বিকেলে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার বাগনান থানার চিতনান এলাকার মাঝে রূপনারায়ণ নদে। নিখোঁজদের সন্ধানে ইতিমধ্যেই এলাকার মাঝিদের নিয়ে পুলিশ রূপনারায়ণ নদে তল্লাশি শুরু করছে। সঙ্গে রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের টিমও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ১৮ জনের একটি দল মানকুর থেকে নৌকায় চেপে পশ্চিম মেদিনীপুরের দুধকুমরার ত্রিবেনী পার্কে পিকনিক করতে আসে।
পিকনিক শেষে তারা ফের নৌকায় চেপেই মানকুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। সেই সময়ই ঘটে যায় বিপত্তি। আচমকাই নৌকাটি উল্টে গিয়ে নৌকায় থাকা সকলেই নদীতে পড়ে যান। এহেন পরিস্থিতিতে নৌকা ডুবতে দেখে নদীতে থাকা ও পাড়ে থাকা অন্যান্য নৌকার মাঝিরা নৌকা নিয়ে নদীতে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। সূত্রের খবর, ১৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও বাকি পাঁচ জন এখনো নিখোঁজ। জানা গিয়েছে, হাওড়ার বেলগাছিয়ার লিচুবাগান থেকে ১৩ জন এসেছিলেন। আর মানকুরের পাঁচজন ছিলেন। এদের নধ্যে মহাদেব কর্মকার ছিলেন মূল উদ্যোক্তা। তিনি তার পরিচিত গণেশ মান্নার বাড়িতে মানকুরে এসেছিলেন। সেখান থেকেই তারা চড়ুইভাতি করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

গণেশ মান্না নিজেও এদিন পিকনিকে গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাওয়ার সময় নৌকা দুটি খেপে ১৮ জনকে ভাগ করে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর ফেরার সময় একটি ক্ষেপেই সকলকে নিয়ে ফিরছিলেন। আর এতেই সমস্যা হয়েছে। তবে, যাত্রীদের অভিযোগ, নৌকায় জল ছিল। তারা মাঝিকে জল বের করে নৌকা ছাড়ার কথা বললেও তিনি তা শোনেননি। এদিকে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বেলগাছিয়ার লিচুবাগানে নেমে এসেছে উৎকণ্ঠা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসেন হাওড়ার গ্রামীণ পুলিশের সুপার স্বাতী ভাঙ্গালিয়া, ছিলেন আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল ,বাগনান এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুপ্রিয় সিংহ প্রমূখ। এখন স্থানীয় থেকে শুরু করে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের একটাই প্রার্থনা সকলে যেন জীবিত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসেন।


More Stories
অস্ত্র আইনে তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দাস গ্রেফতার
লজে পরকীয়া-ব্যাভিচার, হাতেনাতে পাকড়াও সন্তানের জননী ও প্রেমিকপুরুষ
ইন্দাসের ঘটনায় ককরোচের প্রশাসনকে ডেডলাইন