Home » কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ! ১ মাসের জন্য দিল্লিতে জারি ১৪৪ ধারা, চড়ছে আন্দোলনের পারদ

কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ! ১ মাসের জন্য দিল্লিতে জারি ১৪৪ ধারা, চড়ছে আন্দোলনের পারদ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ ফেব্রুয়ারিঃ মঙ্গলবার কৃষকদের বিভিন্ন সংগঠন চার বছর পর ফের ‘দিল্লি চলো’-র ডাক দিয়েছে। কৃষকদের জন্য পেনশন, ফসলের জন্য ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের গ্যারান্টি দেওয়ার আইন, শস্যবিমা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের দাবিতে আজ ‘দিল্লি চলো’র ডাক পঞ্জাব, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্যের কৃষকদের। জানা গিয়েছে, কিষান মজদুর মোর্চা-সহ ২০০টিরও বেশি কৃষক সংগঠন এই আন্দোলনে শামিল হবে। এদিন সকাল থেকেই জড়ো হতে শুরু করেছেন কৃষকরা। চড়ছে আন্দোলনের পারদ। সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত চণ্ডীগড়ের কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং কৃষিমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা। কেন্দ্রের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পরও কোনও রফাসূত্র না মেলায় দিল্লি চলো অভিযান কর্মসূচিতে অনড় রয়েছেন কৃষকরা। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দাবি সরকার আলোচনায় আগ্রহী। এদিকে, কৃষক আন্দোলনের আঁচ রাজধানীতে যাতে না পড়ে, সেই কারণে সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। একমাসের জন্য দিল্লিতে জারি থাকবে ১৪৪ ধারা। যে কোনও বড় জমায়েতে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ১৪৪ ধার লঙ্ঘনে করলেই গ্রেফতার করা হবে।

আরও পড়ুন   সন্দেশখালির ‘সন্দেশ’ : মানুষের কাতর আর্জি, রাজ্যপাল কী আনন্দ বয়ে আনবেন ভীত-সন্ত্রস্তদের মনে?

মঙ্গলবার কৃষকদেরর ‘দিল্লি চলো’ আন্দোলনের কারণে সব সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর, সিংগু, শম্ভু, টিকরি সহ সমস্ত সীমানা সেনানিবাসে রূপান্তরিত করা হয়েছে। কৃষকদের ছদ্মবেশে দুষ্কৃতীরা যদি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। সোমবার থেকেই বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও ডাইভারশন কার্যকর করা হয়েছে। রাজধানীর রাস্তায় ব্যারিকেড থাকায় নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। ইতিমধ্যেই কৃষকদের ‘দিল্লিচলো’ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে হরিয়ানা সরকার। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। তবে, ভয়েস কলের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। চণ্ডীগড় থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্যও বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের মিছিল রুখতে হরিয়ানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড বসানোর কাজও শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ৫০ কোম্পানি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা যাতে অন্যান্য জেলা থেকে হরিয়ানায় ঢুকতে না পারে, কার্যত সেই কারণেই রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে আন্দোলনকারী কৃষকরা কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছে মোদি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে। সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলিও কৃষকদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এর আগে ২০২০ সালে কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে লাগাতার আন্দোলন চলেছে। সেই আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছিল মোদি সরকার। ‘বিতর্কিত’ কৃষি বিল প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নয়ডা এবং গ্রেটার নয়ডার প্রায় ১০০ গ্রামের হাজার হাজার কৃষক সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত জমির জন্য ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামেন। কৃষকরা এক বছরেরও বেশি সয়ম ধরে দিল্লি তিন সীমানায় বসে লাগাতার আন্দোলন চালিয়েছিলেন কৃষকরা। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁরা তিন কৃষক আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করিয়েছিলেন। এই তিন আইনকে ‘কালা কানুন’ নামে আখ্যায়িত করেছিলেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি ক্ষমা চাওয়ায় তাঁরা আন্দোলন তুলে নিলেও সেই সময় কৃষকরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন শেষ হয়নি আন্দোলন।

About Post Author