Home » ২০২০ স্মৃতি উসকে কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’, রাজধানী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা, ফাটল সংগঠনে

২০২০ স্মৃতি উসকে কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’, রাজধানী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা, ফাটল সংগঠনে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ ফেব্রুয়ারিঃ ফের কৃষক আন্দোলনে দেশের রাজধানী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা। দিল্লি অভিমুখে রওনা দিয়েছেন কৃষকেরা। কৃষক আন্দোলন রুখতে তৎপর দিল্লী পুলিশ। যদিও ২০২০-২১এর আন্দোলনের সঙ্গে এই কৃষক আন্দোলনের কিছুটা হলেও পার্থক্য রয়েছে। এই কৃষক আন্দোলনে যুক্ত হয়নি সংযুক্ত কিষান মোর্চা। অথচ সংযুক্ত কিষান মোর্চার ব্যানার বেআইনি ভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দেশের রাজধানী দিল্লির আবহাওয়া অনেকটাই উত্তপ্ত। ২০২০-২১ এর স্মৃতি উসকে ফের দিল্লি চলো ডাক দিয়েছেন কৃষকেরা। মূলত একাধিক দাবি-দাওয়া নিয়েই কৃষকদের এই দিল্লি চলোর ডাক। যার মাধ্যমে অন্যতম দাবি দেওয়া ছিল ইলেকট্রিসিটি অ্যাক্ট প্রত্যাহার, লখিমপুরে মৃত কৃষক পরিবারকে আর্থিক সাহায্যর ঘোষণা, প্রতিবাদী কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার।

আরও পড়ুন    কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ! ১ মাসের জন্য দিল্লিতে জারি ১৪৪ ধারা, চড়ছে আন্দোলনের পারদ

পাশাপাশি অন্যতম দাবি চাষের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেওয়ার আইন, কৃষক ঋণ মুকুব করা এবং স্বামীনাথন কমিশনের সমস্ত সুপারিশ কার্যকর করা। মূলত শেষের দিন দাবি নিয়েই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েই দিল্লি অভিমুখী কৃষকরা। এই কৃষক আন্দোলনে পাঞ্জাব, হরিয়ানার কৃষকরা দিল্লির দিকে অগ্রসর হয়েছেন। ২০২০-২১ এ সংযুক্ত কিষান মোর্চার ব্যানারে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল দিল্লির বুকে। প্রায় ২ লক্ষ ট্র্যাক্টর নিয়ে দিল্লির রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল কৃষক আন্দোলনে। সেই সময় কৃষক আন্দোলনকে রুখতে দিল্লী পুলিশ দিল্লির সমস্ত সীমান্ত কার্যত সিল করে দিয়েছিল। রাস্তায় কাঁটাতার ,সিমেন্টের দেওয়াল আর অনবরত টিয়ার গ্যাস ব্লাস্টের দাপটে দিল্লির বাতাস হয়ে উঠেছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। এবারও কৃষকদের আন্দোলন থেকে প্রতিহত করতে বৈঠকে বসেন দেশের খাদ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল এবং কৃষিমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা। চন্ডিগড়ে বৈঠক হয় কৃষক নেতাদের সঙ্গে। বৈঠক ফলপ্রসু না হওয়ায় সোমবার মধ্যরাতেই কৃষক নেতারা ঘোষণা করেন দিল্লি চলো অভিযান হবেই।

তারপরেই দিল্লি পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে সমগ্র দিল্লি জুড়ে যেকোনো জমায়েতই অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একদিকে যখন কৃষকরা দিল্লি অভিমুখে রওনা দিয়েছেন। অন্যদিকে সংযুক্ত কিষান মোর্চার অন্যতম মুখ হান্নান মোল্লা অভিযোগ করলেন সংযুক্ত কিষান মোর্চা থেকে কয়েকজন কৃষক নেতা বেরিয়েই এই আন্দোলন করছে। যে আন্দোলনে সংযুক্ত কিষান মোর্চার ব্যানার অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংযুক্ত কিষান মোর্চা আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ভারত বন্ধের ডাক দিয়েছে। এ কথা জানানোর পাশাপাশি হান্নান মোল্লার বক্তব্য যেকোনো কৃষক আন্দোলন কৃষকদের স্বপক্ষে হলেই তা সমর্থনযোগ্য।রাকেশ টিকায়েত ঘনিষ্ঠ কৃষক নেতা অনুজ শর্মার বক্তব্য তারাও এই আন্দোলনে নেই, কিন্তু পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।দিল্লি অভিমুখে রওনা দেওয়া কৃষক মার্চ কতটা সফল ভূমিকা নেবে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। কারণ সংযুক্ত কিষান মোর্চা যার মধ্যে প্রায় ৫০০ টি সংগঠন রয়েছে, সেই সংগঠন এই কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নয়। অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে হওয়া কৃষক আন্দোলনের ব্যাপক ব্যাপ্তি এই কৃষক আন্দোলনে নাও হতে পারে।

About Post Author