সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারিঃ তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্দেশখালি যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন বালুরঘাটের সাংসদ। সেখান থেকে প্রথমে তাঁকে বসিরহাট স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশি হেনস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সুকান্ত। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে, সুকান্তর অসুস্থতা পূর্ব পরিকল্পিত। এদিন হুইলচেয়ারে করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন তিনি। যদিও চিকিৎসকরা তাঁকে আরও কদিন হাসপাতালে থেকে বিশ্রাম নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। বিজেপি সূত্রে খবর, রবিবার দিল্লিতে বিজেপির দলীয় বৈঠক রয়েছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নেতারা আসবেন সেখানে। ওই বৈঠকে যোগ দিতেই চিকিৎসকদের কাছে ছুটির আবেদন জানিয়েছিলেন সুকান্ত। এরপর এদিন হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই দিল্লিতে বিজেপির নীতি নির্ধারক কমিটির অধিবেশনে যোগ দিতে রওনা দেন তিনি।
আরও পড়ুন শ্যাম্পু করার পরেও চুলের তৈলাক্তভাব কাটছে না? আজ থেকেই ব্যবহার করুন এই উপাদান
উল্লেখ্য, সন্দেশখালি ইস্যুতে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। তারই মধ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারি সুকান্তরা সন্দেশখালি পৌঁছতেই তাঁদেরকে পথেই আটকায় পুলিশ। সন্দেশখালি যাওয়ার পথে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে টাকিতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সুকান্ত মজুমদার। পুলিশের গাড়ির বনেটে উঠে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তিনি। প্রবল ঝাঁকুনিতে গাড়ি থেকে পড়ে যান। সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। জানা গিয়েছে, টাকির কাছে যে হোটেলে সুকান্ত ছিলেন, ওইদিন সকাল থেকেই সেই এলাকা কার্যত ঘিরে ফেলে পুলিশ। কোনওরকম বিশৃঙ্খলা এড়াতে তৈরি রাখা হয় কমব্যাট ফোর্সকে। যদিও বিজেপি আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, যেখানেই বাধা পাবেন সেখানেই বসে পড়বেন। এদিকে, হোটেলের বাইরে যাতে সুকান্ত কোনওভাবেই বের হতে না পারেন সেই চেষ্টা করে পুলিশ। হোটেলের বাইরে বসিরহাট জেলা পুলিশের বড়বড় কর্তাদের কড়া নজর ছিল।
কিন্তু, শেষ পর্যন্ত পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে হোটেলের মূল গেট দিয়ে প্রতিমা হাতে হোটেল থেকে বেরনোর চেষ্টা করেন ইন্দ্রনীল খাঁ-সহ বিজেপির নেতারা। সেখানেই তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে বাঁধে বচসা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সাফ জানানো হয় পুজো করা যাবে না। পুজো করতে হলে হোটেলের মধ্যেই করতে হবে। কেননা সন্দেশখালির প্রবেশপথের ১৯টি জায়গায় বুধবার সকাল থেকে নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। এসবের মাঝে কার্যত পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে হোটেলের অন্য গেট দিয়ে সরস্বতী প্রতিমা হাতে বের হন সুকান্ত মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ইছামতীর পাড়ে প্রতিমা রেখে শুরু হয় পুজো। যে জায়গায় পুজো চলছে সেখানেও মোতায়েন কড়া হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ইছামতীর তীর ঘিরে ফেলা হয়। এরপরই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। পুলিশের গাড়ির বনেটের উপর উঠে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। প্রবল ঝাঁকুনিতে মাটিতে পড়ে যান সুকান্ত। যদিও বিজেপির দাবি, পুলিশই ফেলে দেয় তাঁকে। এরপর ওইদিন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ জ্ঞান ছিল না সুকান্ত মজুমদারের। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় আনার পরিকল্পনা করে বিজেপি।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি