সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ মার্চঃ নির্বাচন কমিশনার অরুণ গোয়েল ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনারের ২টি পদ শূন্য ছিল। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফা নিয়ে শোরগোল শুরু করেছিল কংগ্রেস। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৫ মার্চের আগে নতুন ২ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত বৈঠক ছিল। প্যানেল বৈঠকের পরই লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী জানালেন,নতুন দুই নির্বাচন কমিশনার হলেন সুখবীর সিং সান্ধু এবং জ্ঞানেশ কুমার। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কমিটি এই কমিশনার নির্বাচন করে। কিন্তু, এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন প্রবীণ মন্ত্রী এবং কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই নাম এখনও পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।
আরও পড়ুন Sheikh ShahJahanঃ সন্দেশখালিতে শাহজাহানের ইটভাটা ও মাছের বাজারে ম্যারাথন তল্লাশি ইডির
যদিও নতুন দুই জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ রুখতে গত সপ্তাহেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস। কংগ্রেসের অভিযোগ, আর কিছুদিন পরেই লোকসভা ভোট। এখন নতুন করে কমিশনার নিয়োগ করা হলে তা নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে। স্বার্থরক্ষার জন্য কেন্দ্র নিজেদের ঘনিষ্ঠদের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করতে পারে বলেই আশঙ্কা ছিল কংগ্রেসের। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের নতুন নির্বাচন কমিশনার সংক্রান্ত আইন শীর্ষ আদালতের বিচারাধীন ছিল। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত কেন্দ্রের নতুন আইনে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং আরও দুই কমিশনার নিয়োগে তিন সদস্যের একটি প্যানেল রয়েছে। এই প্যানেলের সদস্যরা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং কেন্দ্রের মনোনীত একজন মন্ত্রী। আগে এই প্যানেলের সদস্য ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। কিন্তু নতুন আইনে প্রধান বিচারপতিকে প্যানেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচন কমিশনে তিনজন সদস্য থাকেন, এদের মধ্যে একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও দুইজন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার। দু’সপ্তাহ আগেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অরুণ গোয়েল। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই কমিশনের সদস্য অনুপ পাণ্ডে অবসর গ্রহণ করেন। ফলে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে একজনই সদস্য রয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার। আগামী ১৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিটি বৈঠক বসার কথা ছিল। বলা হয়েছিল, ওই বৈঠকেই নতুন দুই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে প্রার্থী বাছাই করা হবে এবং তা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে সুপারিশ করা হবে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনের দ্রুত শুনানির আর্জি গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শুনানির দিন ধার্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত। তার আগেই নতুন দুই নির্বাচন কমিশনারের নাম চূড়ান্ত হয়ে গেল।
#LokSabhaElection2024
#latestbengalinews
#electioncommissioners


More Stories
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
ধর্মই ক্ষমতার উৎস : গীতাপাঠ ও বাবরি মসজিদ
গাড়ি বিস্ফোরণ : মুঘল সুলতানার আক্ষেপ, সাধের দিল্লি নগরীর কী হবে?