Home » নদী যখন এল ডোরাডো : জলে মিলছে সোনা!

নদী যখন এল ডোরাডো : জলে মিলছে সোনা!

সানী রায় ও পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা,২৯ মার্চ :  স্প্যানিশ ভাষায়  এল ডোরাডো কথার অর্থ “যেটি সোনা “।  এল ডোরাডো বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সোনাইমোড়া রহস্যময় গুপ্ত নগরীর কথা। লাতিন আমেরিকার সোনায় মোড়া শহরের খোঁজ কেউ পায় নি। কিন্তু এই বঙ্গেই আছে এমন এক নদী যেখানে নাকি পাওয়া যায় সোনা রূপা । নদীতে ভেসে চলে মূল্যবান ধাতু ও মুদ্রা। উত্তরবঙ্গের এই সোনালী বা রুপালি নদীর নাম করলা। প্রচলিত বিশ্বাস,কপালে থাকলে এই নদীর জল সিঞ্চন করে, কাদা ধুয়ে পাওয়া যায় সোনা রুপো। বহু মানুষ এই বিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে করলা নদীতে সোনা রূপার খোঁজ করে যান আজীবন।

লাতিন আমেরিকার গুয়ানার কিংবদন্তীর সোনার নগরী এল ডোরাডোর খোঁজে যুগে যুগে ছুটে গিয়েছেন অভিযাত্রী দল। সোনায় মোড়া শহরের মিথ কখনো সত্যি প্রমাণ হয়নি। খুঁজে পাওয়া যায় নি সোনার শহর এল ডোরাডো । কিন্তু উত্তরবঙ্গের করলা নদীও নাকী সোনা রুপোয় মোড়া, নদীর জলে ভেসে চলে সোনা, রুপো, তামা আর কয়েন। স্থানীয় সাধারণ লোকের বিশ্বাস তেমনটাই । “যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন।” তাদের অরূপ রতন নদীতে বয়ে চলা সোনা ও রুপো ও ধাতব মুদ্রা । তাই প্রজন্মের পরে প্রজন্ম ধরে করলা নদীতে খোঁজ চলে অমূল্য রতনের।

জলপাইগুড়ি শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে করলা নদী। ঠিক তার থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অপর নদী তিস্তা। জলপাইগুড়ি শহরের এই দুই নদীতে ছিপ কিংবা জাল দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য খুবই সাধারণ। কিন্তু, করলা নদীর জলে নেমে আবর্জনা এবং মাটি ঘেঁটে চিরুনিতল্লাশি করেন বেশ কিছু মানুষ। এলাকায় নবাগত কেউ দেখে হতবাক হলেও দীর্ঘদিন ধরেই এমন চলছে।ভরা করলা নদীতে নেমে জল থেকে কড়াই, ঝুড়িতে করে নদীতে চলতে থাকে সাধারণ মানুষের ছানবিনের কাজ।তাঁরা বলেন, পয়সা তুলছি আর সোনা খুঁজছি। এটাই আমার রুটি-রুজি।” বেশিরভাগ সময়েই কয়েন ও লোহা ছাড়া কিছু মেলে না। তবে অরূপ রতন যারা খোজেন তাঁরা হাল না ছেড়েই খুঁজে চলেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন সোনা, রুপো পাওয়া যায়।

কিন্তু কোথা থেকে মিলছে এই ধাতুগুলি? স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, প্রতি বছর করলা নদীর বিভিন্ন ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হয়। প্রতিমার গাঁয়ে বিভিন্ন লোহার সামগ্রী থেকে শুরু করে কোথাও কিছু রুপার জিনিস বা কোথাও সোনা থাকে। প্রতিমা বিসর্জনের পর সেগুলিই মিশে যায় নদীর মাটির সঙ্গে। সেই সব জিনিসপত্রই সংগ্ৰহ করেন তারা।

তবে এভাবে কি সোনা মেলে? এই প্রশ্ন শুনে মুচকি হেসে তাদেরই একজন রামপ্রসাদ জানান, রোজ সোনা না মিললেও, তাঁদের কাছে মাতৃ তুল্য করলা কোনওদিন খালি হাতে ফেরায় নি। তাদের বিশ্বাস, করলার আশীর্বাদেই তাদের সংসার এখনও বেঁচে রয়েছে। অনেকের পূর্ব পুরুষেরাও এই কাজের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন।অভাবী মানুষ হয়েও মুখে হাসি রেখে বছরভর চলে খোঁজ আর তাদের জীবিকা। জীবনভর স্বপ্নে মিশে থাকা এই খোঁজ যা তাদের পরিবারের ভাত রুটি জোগাড় করে দেয়।

এল ডোরাডো স্বপ্নের সোনার মোড়া রহস্য নগরী, যার কখনো বাস্তবে খোঁজ মেলে নি অথচ এই বঙ্গেই নাকী করলা নদীতে সোনা মেলে। স্থানীয় মানুষ বলে থাকেন, কালে ভদ্র হলেও ভাগ্যে থাকলে সোনা মেলে অন্তত মূল্যবান ধাতু তো মেলেই, মিলে যায় ধাতব মুদ্রা যা বহু পরিবারের কাছে যুগে যুগে জিয়নকাঠি।।

About Post Author