সানী রায়,সময় কলকাতা , ৩১ মার্চ : দুয়ারে লোকসভা ভোট। অধিকাংশ লোকসভা কেন্দ্রে ভোটব্যাঙ্কে গ্রাম বাংলার ভোট অন্যতম প্রধান শর্ত। আর গণতন্ত্রের এই উৎসবে যখন সামিল হতে চান না গ্রাম বাংলার মানুষ তখন ধাক্কা খায় গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো। ভোট বয়কট কেন করেন মানুষ? কেন জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভোট বয়কটের ডাক ?
জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটের আর বিশেষ দেরি নেই। প্রথম দফার ভোট পশ্চিমবঙ্গের যে তিনটি লোকসভা কেন্দ্রে তার মধ্যে অন্যতম জলপাইগুড়ি। জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত ইলেকশনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও কার্যত বিরোধীশূন্য বললেই চলে এই গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত সদস্য বা প্রধানের বক্তব্য, উন্নয়নের নিরিখে এলাকার মানুষ বিপুল ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে জয়ী করে এনেছে। কিন্তু এবারের লোকসভার প্রাক-মুহুর্তে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষতা নদী বাঁধ নিয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরে যখন সাধারণ মানুষ ভোট বয়কটের ডাক দিচ্ছে, সেক্ষেত্রে উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী শিবিরও উন্নয়নের ইস্যুতে অভিযোগ তুলছে । শনিবার এই গ্রাম পঞ্চায়েতে সাধারণ মানুষ প্লে কার্ড হাতে নিয়ে ভোট বয়কটের ডাক দেয় নদীর উপরে স্থায়ী ব্রীজের দাবিতে। রবিবার নদীর ধারে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে ভোট বয়কটের মতো হুঁশিয়ারি সাধারণ ভোটারদের।

ঝাড় আলতা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ রাভা বনবস্তি ঢোকার মূল প্রবেশদ্বারে রয়েছে নোনাই নদী। নদীর উপরে যাতায়াতের একমাত্র ব্রীজ নোনাই বহুকাল ধরেই অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায়। আর তার পাশেই বসবাসকারী পরিবারগুলি বর্ষা নামলেই তাদের বাড়িতে জল ঢুকে জল যন্ত্রণায় ভোগে। গত বছর বর্ষাকাল তাঁরা অসীম দুর্দশায় ছিলেন। সবকিছু জানার বেশ কিছু সময় পরে জেলা পরিষদ ব্লক প্রশাসন ও সেচ দপ্তর থেকেও আধিকারিকরা পরিদর্শনে যান এবং দ্রুত স্থায়ীবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু সবই এখন অতীত। আবারও একটি লোকসভা নির্বাচন। এদিকে বর্ষাও একেবারে দোরগোড়ায় । আর নদী ভাঙ্গন তো অব্যাহত রয়েছে। গ্রামবাসীরা বলছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিটার ব্যবধান, অতঃপর নোনাই নদীর জল গিয়ে পৌঁছাবে তাদের বাড়িতে। আর তারপর দেখা দেবে জলযন্ত্রনা। তবে এই নোনাই পাড় এলাকার মানুষদের অভিযোগটা ব্যতিক্রমী । হাতেগোনা মাত্র কয়েকটা দিন লোকসভা ভোটের। এখনও পর্যন্ত এই এলাকায় কোন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্বরা ভোট চাইতে পর্যন্ত আসেনি। সমস্যার কথা বলার সুযোগ তাই নেই । তাই তাঁরা নিজেদের সমস্যা অন্যভাবে তুলে ধরছেন এবং পরোক্ষে ভোট বয়কটের কথাই বলছেন। তাঁদের আগে স্থায়ীবাঁধ নির্মাণ শুরু হবে, তারপরে ভোট। নতুবা ভোট বয়কট।
এদিকে গোটা ঘটনার বিষয়ে ঝাড় আলতা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে গোটা বিষয় স্বীকার করে নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উপড়ে দিলেন।। গত বছর বন্যার সময় থেকেই জেলা পরিষদে যাবতীয় সমস্যার কথা দরবার করেছেন তিনি। কিন্তু ঠিক কি কারনে এখনও কাজ শুরু হয়নি তা তাঁর কাছে অস্পষ্ট। তবে এবারের লোকসভা ভোট পেরিয়ে গেলেই তিনি আবারও তাদের জন্য লড়াই করবেন আন্দোলনে নামবেন এমনটাই জানালেন উপপ্রধান।
অন্যদিকে, ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া এলাকার ভোটার কার এনিয়ে শুরু হয়েছে অভূতপূর্ব চাপানউতোর। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছেন, নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন বিজেপি সমর্থক। তাঁদের সমস্যা আছে, সমাধান হয় না কারণ শাসক দল তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে বিষয়টিকে দেখে । যদিও গোটা বিষয়টি অস্বীকার করে উপপ্রধানের দাবি, এলাকার মানুষজন তৃণমূল সমর্থক। তবে রাজনৈতিক মতাদর্শে বা রং লাগিয়ে নয়, নদী তীরবর্তী এই এলাকার মানুষজন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে কাজ না হলে ভোট দেবেন না তারা। এ বিষয়ে উভয় দলের রাজনৈতিক উচ্চ পদস্থ নেতৃত্ব সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এলাকা পরিদর্শনে তারা যাবেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। ভোট বয়কট কোন স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
এখন প্রশ্ন, স্থায়ী সমাধান কি আদৌ হবে? ঝাড় আলতা গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষের কান্নার শব্দ কি আদৌ শুনতে পাচ্ছে প্রশাসন? গণতন্ত্রের উৎসব থেকে কেন মানুষ বিমুখ হতে চাইছেন? তাঁদের বিপন্নতার সুরাহা কবে হবে? কবে মানুষের বঞ্চনার আর চোখের জলের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করা হবে, প্রশ্ন তুলছে ঝাড় আলতা।
#electionboycott


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?