সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ এপ্রিল : উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম দুটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা কেন্দ্র বারাসাত ও বসিরহাট। দুটি কেন্দ্রেই বিগত লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দুটি কেন্দ্রেই দ্বিতীয় স্থানে ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। এরকম এক প্রেক্ষাপটে এবারের লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম, কংগ্রেস,আইএসএফ হাত ধরাধরি করে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভেবেছিল। কিন্তু জোট এখন বিশ বাঁও জলে। দুটি কেন্দ্রেই বাম ও আইএসএফ প্রার্থীর নাম ঘোষিত। এরমধ্যে বসিরহাটে আবার এক প্রার্থী দিয়ে তাকে বদলেও ফেলেছে আইএসএফ। এমতাবস্থায় কংগ্রেস কি করে উঠবে এখনও তারা স্থির করে উঠতে পারেনি। জোট ভন্ডুল হওয়ায় কংগ্রেস কাকে সমর্থন করবে নাকি নিজেরা ভোটে লড়বে – উভয় সংকটে কংগ্রেস।
বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও বিজেপির স্বপন মজুমদারের ও আইএসএফের তাপস ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে বাম প্রার্থী হয়েছেন ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী প্রবীর ঘোষ। অর্থাৎ বেশ দেরিতে নাম ঘোষিত হলেও শেষ পর্যন্ত ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বারাসাত লোকসভা কেন্দ্র। সাম্প্রতিক অতীতে সংযুক্ত মোর্চা হিসাবে বাম – কংগ্রেস – আইএসএফ লড়লেও এবার ঐক্য না হওয়ায় ফরওয়ার্ড ব্লকের তিনজন প্রার্থীকে লড়তে দেখা যাচ্ছে এবারের লোকসভা নির্বাচনে। বসিরহাট কেন্দ্রে আবার বাম প্রার্থী হয়েছেন সন্দেশখালির প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সরদার। প্রার্থী বদলের পরে বসিরহাটে আইএসএফের নবতম প্রার্থী আখতার আলী বিশ্বাস।জোট ভন্ডুল হওয়ায় কংগ্রেস কি করবে এটাই বড় প্রশ্ন।
এমনটা হল কেন? অবশ্যই জোট জট ও বিভিন্ন নির্বাচনী বিষয়ে সমঝোতা না হওয়াই কারণ। প্রথম সমস্যা ও জোটে জট পাকায় আইএসএফ, একজন বিধায়ক থাকলেও অধিকাংশ জায়গায় সংগঠন শক্তিশালী না হয়েও ৪২ টির মধ্যে এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৪ টি আসন দাবি করে বসে। প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসু পরে হৃদয়ঙ্গম করেছেন আইএসএফকে জোটে ভাবাটাই ভুল হয়েছিল। ১৪ টি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত প্রায় শখানেক বিধানসভা ক্ষেত্রে আইএসএফের শক্তি কতটা তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কিন্তু তার বহু আগেই ৮ টি আসনে আইএসএফ প্রার্থী ঘোষণা করে বসে।
অতঃপর কংগ্রেস ও বামেদের তথা ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে সংঘাত বাঁধে পুরুলিয়া আসন নিয়ে।দেখা গিয়েছে পুরুলিয়া ও কোচবিহারে কংগ্রেস ও ফরওয়ার্ড ব্লক দু দলই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কোচবিহারে প্রার্থী পিয়া রায় চৌধুরীর ক্ষেত্রে কংগ্রেস পিছোতে রাজি থাকলেও পুরুলিয়া কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রবীণ প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতো প্রার্থী হিসেবে থাকা সত্ত্বেও ফরওয়ার্ড ব্লক ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতোর নাম ঘোষণা করে দেয়। কোচবিহার কেন্দ্রেও পিয়া রায়চৌধুরীর নাম প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সময়সীমা পেরিয়ে যায়। ফলে পুরুলিয়া ও কোচবিহার কেন্দ্রে তৃণমূল- বিজেপি -বাম-কংগ্রেস চতুর্মুখী লড়াই। জোট ভন্ডুল হওয়ায় বারাসাত কেন্দ্রে অবস্থা আরও জটিল।এখানে এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে আছে কংগ্রেস এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি কি করবে। বারাসাত কেন্দ্রে কংগ্রেস কাকে সমর্থন করবে তা কংগ্রেস নেতৃত্বের এ মুহূর্তে অজানা। কারণ আই এস এফ বা বামেদের সঙ্গে সর্বত্র জোট না হওয়ায় এখানে কাদের তারা সমর্থন করবে তাই তাদের জানা নেই। পরিস্থিতি এখন এতটাই ঘোরালো যে বারাসাত কেন্দ্রে কংগ্রেস নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যদিও এখানে দুটি বিরুদ্ধ মত কাজ করছে।প্রথমত, সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী না থাকায়এবং ইতিমধ্যেই বাম আই এস এফ প্রার্থী ঘোষণা করায় এই কেন্দ্রে লড়াই করে হালে বিন্দুমাত্র পানি পাওয়া যাবে না তা নিয়ে সামান্যতম সংশয় নেই কংগ্রেস নেতৃত্বের। অন্যদিকে, কংগ্রেসেরই অপর একটি দল মনে করছেন পুরুলিয়া ও কোচবিহার কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করা সত্ত্বেও ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী দেওয়ায় বারাসাত কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী থাকায় ক্ষতি নেই। এক্ষেত্রে বাম -বিজেপি ব্যতীত তৃতীয় শক্তি কে হবে তা নিয়ে সংঘাত মেটেনি। কয়েকদিন আগেও যারা জোটের কথা বলেছে সেই বামফ্রন্ট ও আইএসএফ এখন বসিরহাটের মত বারাসাতেও সম্মুখ সমরে। কি করনীয় এবং এই দুটি কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভূমিকা কি থাকবে তা স্থির করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেস মুখপাত্র নীলাভ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়া হবে। তথাপি তাঁরা যে সত্য আপাতত উচ্চারণ করতে পারছেন না তা হ’ল জোটের জট না কেটে শেষ মুহূর্তে জোট ভন্ডুল হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ফাঁপরে।।
#latestbengalinews


More Stories
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!
প্রাক্তন বিধায়ক রফিকুরের ভাই আনিস গ্রেফতার
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ