সানী রায়,সময় কলকাতা,৬ মে : দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া- কবিগুরুর এই শব্দবন্ধের সাথে বঙ্গের নতুন ভ্রমণস্বর্গ ঝান্ডিকে অবশ্যই মেলানো যায়। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ঝান্ডি নামটি একেবারেই আনকোরা। বিশেষ ভ্রমণসঙ্গী হয়ে উঠতে পারে অল্প- কয়েকটি তথ্য যা তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
যখন দক্ষিণবঙ্গের সাথে সাথে উত্তরের সমতল আবহাওয়া গরমে স্বস্তি দুর্লভ ঠিক সেসময় জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার শহর থেকে মাত্র এক ঘন্টায় পাড়ি দিলেই পৌঁছে যাবেন হালকা ঠান্ডার দেশ ঝান্ডিতে। ঠান্ডার চাদরে মোড়া ঝান্ডিতে মে মাসের অসহ্য গরমে গায়ে দিতে হবে শীতকালীন বস্ত্র সম্ভার।জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষ যখন উত্তপ্ত তাপমাত্রায় অস্থিরতা প্রকাশ করছে তখন পর্যটনের এক নতুন ঠিকানা হয়ে উঠতেই পারে কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকের অন্তর্গত ঝান্ডি গ্রাম।
সেখানে এলাকার মানুষরা গুটিগুটি পায়ে পরিবেশকে সুন্দর রেখে আর্থিকভাবে জীবনযাপন রক্ষার উদ্দেশ্যে গড়ে তুলেছে পর্যটনের স্থল ।তবে খুব সুলভেই পাবেন এই শীতল মধুর ছোঁয়া।

নদী – জঙ্গল -পাহাড় মিশে আছে ঝান্ডির লোকেশনে। এই তিনধরণের স্বাদ পেতে হলে কমখরচে, কাছেপিঠের মধ্যে এরকম আর কোনও জায়গা আপনি পাবেন না। শুনে খুব আশ্চর্য হবেন যে, পাহাড়ে ঝান্ডি এমন একটি জায়গা যেখান থেকে আপনি সমতলের দৃশ্য অর্থাৎ নদী- জঙ্গল- চা বাগান সহ অন্যান্য সব দৃশ্যেই দেখতে পাবেন। আর পাবেন বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় কাঞ্চনজঙ্গা, নাথুলা সহ সূর্যোদয় সূর্যাস্ত দেখা যায় এই ঝান্ডি গ্রাম থেকে পাশাপাশি প্রচুর পাহাড়ি পাখির সভাস্থল হচ্ছে ঝান্ডি।

বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন সময় দেখা যায় একটি কথা গরমি মে ভি ঠান্ড কা এহশাস। তাই যেন ঝান্ডি। বঙ্গের কাঠফোটা গরমে আর রোদে ঝান্ডি শান্তি আনবেই। সমুদ্রপৃষ্ঠ তল থেকে ৬২০৫ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত ছবির মত সুন্দর গ্রামটি । মালবাজার থেকে অনায়াসে দু চাকা, চার চাকা নিয়ে চলে আসতে পারেন ।এই গ্রামে পাবেন এখানে সুস্বাদু খাবার ভান্ডার পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে মন ভরে হেঁটে বেড়ান এবং ফুসফুসের ভিতর অফুরন্ত অক্সিজেন ভরে ফিরে যান নিজের কর্মস্থলে ।

স্থানীয় তথা ভূমিপুত্র দর্জি শেরপা এই মুহূর্তে ঝান্ডি ইকো হাট হোমেস্টে পরিচালনা করছে। দর্জি শেরপা যেন নাটোরের বনলতা সেন। তিনি বলছেন,”আমাদের প্রকৃতির কোলে থাকা গ্রাম মানুষকে শান্তি দেবে । আমরা প্রকৃতির যথেষ্ট খেয়াল রাখি এবং বনজঙ্গলকে যথেষ্ট যত্ন করি তাই আজও আমরা এই গরম থেকে যথেষ্ট সুরক্ষিত এবং শান্তিময় জীবন যাপন করছি ।”
গরমের হাত থেকে বাঁচতে, অস্বস্তি এড়িয়ে শীতল সুখের সাগরে ভাসতে হলে চলে আসুন এই ছোট্ট গ্রাম ঝান্ডিতে।


More Stories
মরিচা ঝিল, বর্তির বিল : প্রশাসনিক উদ্যোগে পর্যটন শিল্পে আমডাঙার স্বপ্নপূরণ
মূর্তি পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকশূন্য, মূর্তির মনখারাপ
রানীরহাটের বিজয় চক্রবর্তী : পর্বত প্রেমের অনুপ্রেরণার একটি নাম