সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ মে: রবিবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝে আছড়ে পড়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’। ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ইতিমধ্যেই দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, কলকাতার আশেপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ কিমি বেগে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে এখনো পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এবার মৃতদের পরিবারদের গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেন তিনি। ভোট মিটলেই স্বজনহারা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মমতার।
আরও পড়ুন Copa America: কোপা আমেরিকার আরও এক অনন্য নজির, ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে মহিলা রেফারি
রিমেল আছড়ে পড়ার পর সোমবার দুপুরে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট শেয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ নদীমাতৃক রাজ্য, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত। প্রতিবছরই তাই আমাদের নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। এবারেও সাইক্লোন ‘রিমেলে’র প্রভাবে আমাদের রাজ্যে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু, সবার উপরে মানুষের জীবন। রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতায় এবার জীবনহানি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। নিহতদের পরিবারদের আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। তাঁদের পরিবারের হাতে অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা পৌঁছাবে। ফসলের ও বাড়িঘরের যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণের বণ্টন আইন-মোতাবেক প্রশাসন এখনই দেখে নেবে এবং নির্বাচনের আচরণবিধি উঠে গেলে আমরা এই সব বিষয় আরও গুরুত্ব দিয়ে পুরোটা বিবেচনা করব।’
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে আমার রাজ্যের সম্পূর্ণ সচিবালয়, জেলা প্রশাসন থেকে ব্লক প্রশাসন – দুর্যোগের মোকাবিলায় সকলে সংহতভাবে সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় ১৪০০ শিবিরে সরানোর কৃতিত্ব আমাদের পুরসভা – পঞ্চায়েতগুলিরও। এজন্য আমি রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের সকলকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় রেমালের জেরে সোমবার সকাল থেকেই দুর্যোগ শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। অতিভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। ইতিমধ্যে উপকূল এলাকায় ঝড়ের গতিবেগ বেড়ে ঘন্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রে এক থেকে তিন মিটার অবধি জলোচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে। ফলে উপকূল এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবার থেকেই বাংলাদেশের ১৫ জেলাতে জলোচ্ছ্বাসের সর্তকতা জারি করা হয়েছিল। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ফেনি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি রয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ‘রেমাল’-এর প্রভাবে শুধু ঘূর্ণিঝড় নয়, প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সোমবার বিকেলের পর আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে কলকাতাতে। ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ কমবে। মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হবে।
#CyloneRemal
#Latestbengalinews
#ঘূর্ণিঝড়রেমাল


More Stories
টিম ইন্ডিয়ার আগুন ধুয়ে দিল ক্যানবেরার বৃষ্টি
উত্তর ২৪ পরগনায় আইএসএফ ও তৃণমূল সংঘর্ষ, জখম একাধিক কর্মী
উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টির তান্ডবে ধুয়ে গেল ভারত-চীন সেতু!