পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা , ১০ জুন : ভারতের কাছে ক্রিকেটে পাকিস্তানের হার জলভাতের মত স্বাভাবিক বিষয়।সাম্প্রতিক সময়ে, পাকিস্তানের কাছে ভারতের হার অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত পাকিস্তানের ম্যাচ হলে পাকিস্তান হারবে এরকমটাই যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে উঠেছে । রবিবারও ভারতের কাছে পরাজিত হতে হল পাকিস্তানকে। বারবার এমনটাই হচ্ছে। কিন্তু কেন? একদা ক্রিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী পাকিস্তানের ধারাবাহিকভাবে শোচনীয় ফলাফলের কারণ কী?

রবিবার ভারতের কাছে ৬ রানে হেরে যাওয়ার পরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিদায় ঘন্টা বেজে উঠেছে। নবাগত আমেরিকার কাছে পরাজয়ের পরে ভারতের কাছে হারের পরে বাবর আজম পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত একটি অপ্রিয় সত্য খোলসা করে দিয়েছেন। বলে ফেলেছেন পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটের কঙ্কালসার চেহারার অন্তর্নিহিত সত্য। ম্যাচের শেষে, পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, আমরা আপ টু দা মার্ক ছিলাম না। অর্থাৎ তিনি বলেছেন, পাকিস্তান নির্দিষ্ট মানে পৌঁছতে পারেনি। কী বলেছেন বাবর আজম । পাকিস্তানের অধিনায়ক মনে করেন, পাওয়ার প্লে তে পাকিস্তান ভালো খেলতে পারেনি এবং মিডল ওভারে পাকিস্তানের ব্যাটিং কার্যত থমকে যায়। তিনি বলেছেন, “আমাদের মনে যা ছিল সেভাবে আমরা স্বাভাবিকভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, চেয়েছিলাম ব্যাটিংয়ে প্রথম ছয় ওভার ঠিকঠাক কাজে লাগাতে এবং যদি আমরা তাই করতে পারতাম তাহলে আমরা জিততাম,”। ভারতের কাছে পাকিস্তানের ছয় রানের পরাজয়ের পর বাবর বলেন,প্রথম ছয় ওভার কাজে লাগাতে পারিনি, আমরা প্রথম ছয় ওভারে ৪০ থেকে ৪৫ রানের মতো টার্গেট করেছিলাম, কিন্তু আমরা সঠিকভাবে তা করতে পারি নি এবং দশ ওভারের পরেও আমরা একই ভুল করেছি।” পাকিস্তানের অধিনায়ক সরাসরি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ কে দোষারোপ করেছেন। সত্যি কথা বলতে কি, পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপে ভরসা করার মত ক্রিকেটারের অত্যন্ত অভাব।
জাহির আব্বাস ও জাভেদ মিয়াদাদের যোগ্য উত্তরসূরী হয়ে ওঠা ইনজামামুল হক বা ইউনিস খান এবং মহম্মদ ইউসুফদের বিদায়ের পর থেকেই পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপে খরা। ব্যাটারদের নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন উঠেই চলেছে। স্বয়ং বাবর আজম অবশ্যই একটি বড় ব্রান্ড তবুও সাদা বলের ক্রিকেটে তার কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করে থাকেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একটি বিরাট অংশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তার যাবতীয় সাফল্য দুর্বল দল গুলির বিরুদ্ধে। বাবর বা রিজওয়ান তবুও কিছু রান ধারাবাহিকভাবে করে থাকেন। ফকর জামান ছাড়া অন্যদের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। রবিবার ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে না থাকলেও ইদানীং পাকিস্তানের দলে খেলতে দেখা যাচ্ছে আজম খানকে। আজম খান ঘরোয়া ক্রিকেটে যতই সাফল্য পান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে তাকে একেবারেই ফিট মনে হচ্ছে না। আজম খানের অন্তর্ভুক্তি ঘিরে স্বজনপোষণের অভিযোগ ও পাকিস্তানের ক্রিকেট কর্তাদের বিরুদ্ধে।মঈন খানের পুত্র হওয়ার সুবাদে তিনি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন এরকম অভিযোগও রয়েছে। তাঁর বদলে সুস্থ হয়ে খেলতে নামা ইমাদ ওয়াসিমও অসাধারণ মানের প্লেয়ার নন। ইফতিকার সাদা বলের প্রচুর ক্রিকেট খেললেও এখনো পর্যন্ত ম্যাচ জেতানো কোন ইনিংস খেলতে পারেননি।
পাকিস্তানে ভালো মানের ব্যাটারের অভাবের কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে ভারতের মত ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিকাঠামো তৈরি না হওয়া এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া। শুধু ব্যাটার নয়, সাম্প্রতিককালে বোলারের অভাব ও তাই পাকিস্থানে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভারতের রঞ্জি বা দলীপ ট্রফির মত প্রতিযোগিতার অভাব, সারা বছর ধরে চার বা পাঁচ দিনের ফরম্যাটের লাল বলের ক্রিকেট না থাকা যে পাকিস্তানের ক্রমশ পিছিয়ে পড়ার কারণ হয়ে উঠছে, মেনে নিচ্ছেন ওয়াসিম আকরাম বা শোয়েব আখতারের মত প্রাক্তন পাকিস্তান ক্রিকেট তারকারা।


More Stories
T20 World Cup 2024 : আইসিসির বাছাই করা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ থেকে বাদ ‘কিং কোহলি’, ভারত থেকে কারা রয়েছেন সেই দলে?
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই রোহিত – কোহলির অবসর
অক্ষরে অক্ষরে বাপুর বিপ্লব