পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৮ জুন : ভারত ছাড়ো আন্দোলন ১৯৪২ সালের ঘটনা। ব্রিটিশ রাজের অবসানের পেছনে মহাত্মা গান্ধীর অনস্বীকার্য অবদান ইতিহাস বইয়ের পাতায় রয়েছে। বাপু নামে পরিচিত ইতিহাসপ্রসিদ্ধ গান্ধীজি এই অহিংস আন্দোলন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ক্রিকেটের ইতিহাস বইয়েও লেখা থাকবে ২০২৪ টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরেক বাপুর কথা। মাঠে অহিংস গতিবিধি তাঁর। বাপু ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ডকে ছুঁড়ে ফেলায় নেতৃত্ব দিলেন। ব্যাট হাতে একটি লড়াকু ক্যামিও আর বল হাতে ইংল্যান্ডের মেরুদণ্ড ভেঙে ইংল্যান্ডকে প্রতিযোগিতার বাইরে পাঠালেন বাপু অক্ষর প্যাটেল। অক্ষরে অক্ষরে বাপু গান্ধীর যেন ছায়া ।
তিরিশ বছরের স্পিনারের ব্যাটের হাতও চমৎকার। দলের প্রয়োজনে নিজেকে বারবার উজাড় করে দিতে উদগ্র বাসনা রাখেন। অতীতে বারবার প্রমাণ রেখেছেন। ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপের আগে চোট পেয়ে দলের বাইরে চলে যাওয়ার পরে দ্রুত নিজেকে সুস্থ করে তুললেও দলে নেওয়া হয় নি তাঁকে । শারীরিক আঘাতের চেয়ে মনে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে তেমন ইঙ্গিত রেখে বিতর্ক দেখা দেওয়ায় সেই পোস্ট ডিলিট করে দেন তিনি। দলে ফেরেন বিশ্বকাপের পরেই। সম্ভবত অপেক্ষা করেছিলেন আরও বৃহত্তর মঞ্চের জন্য। সুযোগে আসতেই ২০২৪ সালের কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে তিনি প্রায় প্রতি ম্যাচে বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি কতটা অপরিহার্য। নীরবে অবদান রেখে চলা অক্ষর এখন ছাপিয়ে যাচ্ছেন লাইমলাইটে থাকা তারকাদের। যুক্তরাষ্ট্রে এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ভারতের ভালো ফলের অন্যতম কান্ডারি বাপু -অক্ষর প্যাটেল। পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ম্যাচে বল ও ব্যাট তিনি জয়ের প্রধান কারিগর।
পাকিস্তান ম্যাচে বিরাট ও রোহিত পাকিস্তান ম্যাচে দ্রুত সাজঘরে ফিরতেই চার নম্বরে পাঠানো হয়েছিল ব্যাট করতে। ভারতের ১১৯ রানের মধ্যে একটি অসমসাহসী ২০ রানের ইনিংস খেলেন যা জয়ের নেপথ্যে বিরাট ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে । অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অজিরা যখন স্থির ও নিশ্চিতভাবে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে তখন অত্যাশ্চর্য কাণ্ড ঘটালেন বাপু ।হয়তো এই ক্যাচ ধরলে কিংবদন্তী গোলরক্ষক লেভ ইয়াসিন গর্ববোধ করতেন ।বাউন্ডারি লাইনে নিজের উচ্চতা ও টাইমিং সেন্স কাজে লাগিয়ে অজি-অধিনায়কের নিশ্চিত ওভার বাউন্ডারিকে ক্যাচে পরিণত করলেন। সেখানে থামলেন না। প্রতি ওভারে ১০-১৫ রান উঠছে। ১৩ তম ওভার করতে এসে তিন রান দিলেন। সেই চাপ কাটিয়ে উঠতে পারে নি অজিরা। সেমিফাইনালে ৬ বল খেললেন, তারমধ্যে খুব দরকারি ১০ রান করলেন। বলে ম্যাজিক। ২৩ রানে ৩ উইকেট। ব্যাট -বল এবং ফিল্ডিং। বিশ্বকাপ ভারত জিতলে বাপুগিরি ভোলা যাবে না। না জিতলেও ভোলা যাবে না।
অক্ষরে অক্ষরে বাপু তিনি। এরকম ময়দানি বিপ্লব অক্ষর সম্প্রতি করছেন তা তো নয়। তবুও সুনীল গাভাস্কার অক্ষরের বল টার্ন না করার সমালোচনা করেছিলেন। অথচ লাইন টু লাইন নিশানায় অভ্রান্ত থেকে তিনি সাফল্য পেয়েছেন টেস্টেও। ২০২১ সালে আমেদাবাদে ৭০ রানে ১১ উইকেট পেয়েছিলেন।সবাই ব্যর্থ হলেও লড়ে যাওয়ার মানসিকতা রাখা বাপু দুর্দান্ত কিছু ইনিংস খেলেছেন। বড় হিট রয়েছে হাতে। টেস্ট, একদিন আর টি- টোয়েন্টি মিলে ৭ টি অর্ধ শতরান রয়েছে। ফিল্ডিংও ভালো। তবুও খুব নীরবে কাজ করে যান রোগা, লম্বা তরুণ অলরাউন্ডার ।সবমিলিয়ে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে যেন অক্ষরে অক্ষরে মিশেছে বাপুর ময়দানি বিপ্লব। নীরব অথচ কার্যকরী অক্ষর এখন ভারতীয় ক্রিকেটে অপরিহার্য সম্পদ ।।


More Stories
ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড যেন যৌনতার ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
ইনিংস ও ৩০০ রানে জয় ভারতের