সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ অক্টোবর: জয়নগর কাণ্ডের ময়নাতদন্ত হবে কল্যাণী এমসে। বরিবার এই রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার সকালেই মৃত শিশুর দেহ নিয়ে রওনা দিয়েছিল পুলিশ। মোমিনপুরের কাঁটাপুকুর মর্গ দেহ নিয়ে পৌনে ১০টা নাগাদ কল্যাণী এমসে পৌঁছেও গিয়েছে তাঁরা। অন্যদিকে এখোনও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি মহিষমারি গ্রামে। পুলিশি ঘেরাটোপে মোড়া নির্যাতিতার গ্রাম। রাগে ফুঁসলেও রুজিরুটির তাগিদে দৈনন্দিন কারকর্ম, দোকান-পাঠ খুলে গিয়েছে। চলছে কেনবেচাও। পরিস্থিতি যাতে আবার উত্তপ্ত না হয়, সেই জন্য ঘন্টায় ঘন্টায় চলছে পুলিশের টহলদারী।

আরও পড়ুন: সন্দেহের বসে হত্যার চেষ্টা স্ত্রীকে, স্বামীকে যাবজ্জীবন সাজা শোনালো চুঁচুড়া আদালত
প্রথমে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কাঁটাপুকুর মর্গে পাঠানো হয়েছিল। তবে ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আগেই। আরজি কর কাণ্ডের মত ময়নাতদন্ত নিয়ে জল্পনা চায় না জয়নগর কাণ্ডে মৃতার পরিবার। কার্যত শনিবার উচ্চ আদালতে নির্যাতিতা শিশুর বাবা আর্জি জানিয়েছিল, তাঁর মেয়ের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত যেন কোনও একটি কেন্দ্রীয় হাসপাতালে করা হয়। এবং ময়নাতদন্ত চলাকালীন ঘটনাস্থলে যেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকেন। ভদ্রলোকের দুই দাবিই গতকাল মেয়ে নিয়েছিল তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ। সঙ্গে বিচারপতি তীর্যক মন্তব্য করতে ছাড়েনি পুলিশকেও। নির্যাতিতার বাবা প্রথমে চেয়েছিলেন কমান্ড হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হোক, তবে কমান্ড হাসপাতাল সাধারণ মানুষের ময়নাতদন্তের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে। পরে বিচারপতির নির্দেশে ঠিক হয় কল্যাণী এমস হাসপাতলে হবে নির্যাতিতা ময়নাতদন্ত। সোমবার সকাল পৌনে ১০ নাগাদ মৃতদেহ নিয়ে সেখানে পৌছেও গিয়েছে পুলিশ। অজই শুরু হবে ময়নাতদন্তের কাজ।
আরও পড়ুন: কল্যাণী এমসে হবে জয়নগরকাণ্ডের ময়নাতদন্ত, নির্দেশ উচ্চ আদালতের, বিচারপতির কড়া প্রশ্নের মুখে পুলিশ
ন’বছরের শিশুর মর্মান্তিক খুন ধর্ষণের অভিযোগে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি জয়নগরে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল বছর নয়ের মেয়েটা। পথে বাবার সঙ্গে শেষবার দেখা করেছিল। তারপর বাড়ি ফেরার পথেই নিখোঁজ হয়ে যায় শিশু। রাত নটায় মহিসুরের স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে ‘মিসিং ডায়েরি’ করতে গেলে পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে রাত বারোটায় জয়নগর পুলিশ স্টেশনে এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতা শিশুর বাবা-মা। এরপর রাত আড়াইটা নাগাদ শিশুর মৃত্য দেহ স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয়। শনিবার ভোরেই জয়নগরের পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত ঊনিশ বছরের এক যুবককে। তবে স্থানীয় ফাঁড়ির দিকেই আঙ্গুল তুলছেন এলাকাবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, ঠিক সময়ে তদন্ত শুরু করলে মেয়েটিকে বাঁচানো যেত। জনতার রোষ এখনও টাটকা। ঘটনাস্থলে গতকাল হাজীর হয়েছিয়েন বারুপুরের পুলিশ কর্তারা। রবিবার মেয়ের স্বচ্ছ ময়নাতদন্তের দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট হাজির হয়েছিল নির্যাতিতার বাবা। দুপুরে জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি হয়েছে। বিচারকদের নির্দেশে আজ হবে ময়নাতদন্ত।


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন