সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ অক্টোবরঃ জয়নগরকাণ্ডে মেয়ের মৃতদেহের স্বচ্ছ ময়নাতদন্তের আর্জিতে রবিবার সকালেই কলকাতা হাইকোর্টৈর দ্বারস্থ হয়েছিল নির্যাতিতার বাবা। এবার সেই আর্জিতেই নিহত নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত কল্যাণী এমস হাসপাতালে করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। জয়নগরকাণ্ডে মেয়েটির বয়স দশ, তাহলে কেন পকসো ধারায় মামলা রজু করা হল না? এই নিয়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। এর পরেই বিচারপতির নির্দেশ “জয়নগরকাণ্ডে পকসো আইনের ধারা এক্ষুনি যুক্ত করা হোক।”

আরও পড়ুনঃ ডার্বির আগেই জয়ের স্রোতে ফিরল মোহনবাগান, টেবিলে পতন ইস্টবেঙ্গলের, চিন্তায় সমর্থকরা
এদিন উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের কাছে মৃতার বাবার আবেদন ছিল, মেয়ের ময়নাতদন্ত যেন কোনও একটি কেন্দ্রীয় হাসপাতালে করা হয়, এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে করতে হবে ময়নাতদন্তের কাজ। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে আজ মামলার শুনানি হয়েছে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে। নির্যাতিতার বাবার আর্জি ছিল কমান্ড হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হোক, তবে কমান্ড হাসপাতাল আমজনতার ময়নাতদন্ত করতে রাজি হয়নি। শেষমেশ আদালতের নির্দেশে সোমবার কল্যাণী এমসে ময়নাতদন্ত হবে। তবে সেখানে যদি ময়নাতদন্তের সঠিক পরিকাঠামো না থাকে, তা হলে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করানো যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি। তাঁর কথায়, ‘‘কল্যাণী এমসের চিকিৎসকেরাই ময়নাতদন্ত করবেন। ময়নাতদন্তের সময় জেএনএম হাসপাতালের এক জন কর্মীও উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সোমবার বেলা ১১:৪৫ মিনিটে কল্যাণী এমসে দেহ যাবে। বারুইপুর কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটকে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। ময়নাতদন্ত চলাকালীন কক্ষের বাইরে বাবা-মা থাকতে পারেন। শুধুমাত্র তাঁরাই চাইলে ময়নাতদন্তের ভিডিয়ো দেখবেন।
আরও পড়ুনঃ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, পরে বিষ খাইয়ে খুন, মেদিনীপুরে অভিযোগ দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে
ন’বছরের শিশুর মর্মান্তিক খুন ধর্ষণের অভিযোগে শনিবার গোটা দিন আগুন জ্বলেছে জয়নগরে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল বছর নয়ের মেয়েটা। পথে বাবার সঙ্গে শেষবার দেখা করেছিল। তারপর বাড়ি ফেরার পথেই নিখোঁজ হয়ে যায় শিশু। রাত নটায় মহিসুরের স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে ‘মিসিং ডায়েরি’ করতে গেলে পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে রাত বারোটায় জয়নগর পুলিশ স্টেশনে এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতা শিশুর বাবা-মা। এরপর রাত আড়াইটা নাগাদ শিশুর মৃত্য দেহ স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয়। শনিবার ভোরেই জয়নগরের পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত ঊনিশ বছরের এক যুবককে। তবে স্থানীয় ফাঁড়ির দিকে আজ, রবিবার পর্যন্ত আঙ্গুল তুলছেন এলাকাবাসীরা। জনতার রোষ এখনও টাটকা। ঘটনাস্থলে গতকাল হাজীর হয়েছিয়েন বারুপুরের পুলিশ কর্তারা। রবিবার মেয়ের স্বচ্ছ ময়নাতদন্তের দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট হাজির হয়েছিল নির্যাতিতার বাবা। দুপুরে জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি হয়েছে।


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?