সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ অক্টোবরঃ জীবনদায়ী আটটি প্রয়োজনীয় ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। NPAA-র সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। ।

সম্প্রতি, বেশকিছু গুরুতর রোগের ওষুধের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি বা এনপিএএ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এ বার সরব হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলির দাম কেন বাড়ানো হচ্ছে, জানতে চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জিও জানিয়েছেন।
অ্যাজমা, টিবি, গ্লুকোমা, চোখের সমস্যা এবং অন্যান্য সংক্রমণ-সহ মানসিক রোগ এবং থ্যালাসেমিয়ার ওষুধের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি। তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, “এই ওষুধ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম বেড়েছে। তাই দামও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের মূল্যনিয়ন্ত্রক সংস্থা। যেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা চিঠিতে মমতা উল্লেখ করেন, “কয়েক মাস আগেই ডায়বেটিস, ব্লাড প্রেসার, অ্যান্টিবায়োটিক-সহ একাধিক রোগের ওষুধের দাম বাড়িয়েছিল এনপিপিএ। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এইভাবে এই মূল্য বৃদ্ধি বিপদে ফেলবে রাজ্যের আমজনতাকে।”
আরও পড়ুনঃ Madrasa: বন্ধ হচ্ছে না মাদ্রাসায় আর্থিক সাহায্য, কমিশনের নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের
পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, “সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় একাধিক জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত। তার ওপর দৈনন্দিন ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আমজনতার কাছে বিরাট ধাক্কা।” এই পরিপ্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আবেদন জানিয়েছেন নির্দিষ্ট দফতরে নির্দেশ দিতে এবং এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখতে। মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষকেই সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত সব সময়। তিনি আশা করছেন, কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। উল্লেখিত ওষুধগুলি ছাড়া আরও একাধিক ওষুধের দামে প্রভাব পড়বে এই সিদ্ধান্তের কারণে। গত এপ্রিল মাস থেকেই প্যারাসিটামল সহ অন্তত ৮০০ ওষুধের দাম বেড়েছিল। ২০১৯ ও ২০২১ সালে একইভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল বহু ওষুধের। এর পর ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রায় ৮০০টি ওষুধের দাম বাড়ানো হয়। এবার অক্টোবরে একধাক্কায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হল ৮ জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম। রোগ বাড়ছে, ওষুধের দামও বাড়ছে। সাধারণ মানুষের খেয়াল কে রাখবে? না কি মধ্যবিত্তের সুরাহা তো দূরের কথা, উল্টে তাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেওয়াটাই এখন যে কোনও সরকারের রেওয়াজ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে দিলেন চিঠি।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর