সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ নভেম্বর: সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ফেসবুকে ‘লোক খুঁজছি’ লিখে একটি পোস্ট করেছেন। পোস্টটিতে বেশ কয়েকটি পদে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, প্রথম পদটিই হল রাজনৈতিক বিশ্লেষকের। অর্থাৎ, যিনি পরিস্থিতি বুঝে পরামর্শ দেবেন। নির্বাচনে বাজিমাত করতে তৃণমূল প্রশান্ত কিশোরকে আঁকড়ে ধরেছিল। এই নিয়ে শাসক দলকে একসময় সমালোচনায় বিদ্ধ করেছিল বামেরা। এবার সেই সিপিএম নিজেই দলের হয়ে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকের খোঁজ করছে! রাজ্যে এক আশনেও অস্তিত্ব নেই লাল পতাকার। এবার কি তবে অস্তিত্ব ফিরে পেতে তৃণমূলের দেখানো রাস্তাতেই হাঁটবে সেলিমরা? ভোটে জিততে বামেদেরও কি একজন ‘পিকে’ চাই?

গত বিধানসভার চুনকাম হয়ে যাওয়ার পর, গত লোকসভাতেও সিপিএমের একজন প্রার্থীও কোনও আসনে বসার বহুমত পাননি। শুধুমাত্র কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী ঈশা খান চৌধুরীর জয়ে কিছুটা সহায়তা করতে পেরেছে বামেরা। শেষ কয়েক বছর ধরে দলের এমন যবনিকা পতনে সিপিএমের অন্দরেই ‘পিকে চাই’ রব উঠেছিল। দলের কর্মকর্তাদের মুখেই শোনা গিয়েছিল নির্বাচনের ফল ভাল করতে দলের পাশে প্রশান্ত কিশোরের মত একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষককে প্রয়োজন। এদিন সেই দাবিই ‘মান্যতা’ পেল। শুক্রবার এই মর্মে বিজ্ঞাপনই দিয়ে ফেলল সিপিএম। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ফেসবুকে ‘লোক খুঁজছি’ লিখে পোস্ট করেছেন। সেখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সহ একাধিক পদের জন্য লোক চায় বামেরা। তবে তৃণমূল যেভাবে প্রশান্ত কিশোরকে কাজে লাগিয়েছে সিপিএম সেই রকম কাউকে চান, এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন সেলিম। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এত দিন মানুষ সিপিএম ডিজিটাল দেখেছেন। এ বার সিপিএম প্রফেশনাল দেখবেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের এগোতে হচ্ছে। আমরা সেই মতোই কাজ শুরু করে দিলাম।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ছাড়াও গণজ্ঞাপনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লেখার লোক, গ্রাফিক ডিজাইনার, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একজিকিউটিভ নিয়োগের বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে। সিপিএমের ওই বিজ্ঞাপন থেকে স্পষ্ট, ২০২৬-এর বিধানসভার কথা মাথায় রেখে ‘শূন্যের গেরো’ কাটাতে সিপিএম এখন থেকেই কাজ শুরু করে দিল। তবে তাঁদের এই সমস্ত পদক্ষেপ লাল শিবিরকে জয়ের স্রোতে ফেরাতে পারবে কি না, তা বলবে সময়।


More Stories
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
বালাসাহেব-উদ্ধব ও একনাথই কি যথাক্রমে মমতা – অভিষেক ও ঋতব্রত?
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের