Home » বয়সকে হার মানালেন শিলিগুড়ির সোমা দত্ত, এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে দেশের মুখ এখন ৬৭ বছরের দিদিমণি

বয়সকে হার মানালেন শিলিগুড়ির সোমা দত্ত, এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে দেশের মুখ এখন ৬৭ বছরের দিদিমণি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ ডিসেম্বরঃ বয়স শুধুমাত্র একটা সংখ্যা! এই কথাটিকে ফের একবার সত্য প্রমাণ করলেন এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে ভারতের প্রতিনিধি ৬৭ বছরের সোমা দত্ত। বাগডোগরার ভুজিয়াপানি পুঁটিমারির বাসিন্দা সোমা আগামী বছর তাইওয়ানে এশিয়ান গেমসে অংশ নেবেন তিনি। এর জন্য প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন এখন থেকেই।

আরও পড়ুনঃ বর্ষবরণের রাতে শহরবাসীর সুবিধার্থে বিশেষ ভাবনা কলকাতা মেট্রোর, বছরের শেষ রাতে তিন জোড়া স্পেশ্যাল ট্রেন চলবে

এক সময় গাজোল থেকে ফাঁসিদেওয়া হাইস্কুলে বদলি হয়ে আসেন সমা দত্ত। ৩২ বছর সেখানে কাজ করছেন তিনি। একদিন অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে একটি খেলায় নাম হঠাৎ করেই নাম লেখান। সেখানে প্রথম স্থান অধিকার করার পর জানতে পারেন শিলিগুড়িতে রাজ্য স্তরের খেলা হবে। ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে যারা তাঁরাই নাম দিতে পারবে। প্রথমে সেখানে খেলতে পারব কি না ভয় ছিল। তবুও সাহস করে নাম লিখিয়ে ফেলেন। খেলার জন্য জুতো, ট্র্যাক সুট কিছুই ছিল না। সব বাধা উপেক্ষা করে ২০১২ সালে রাজ্যস্তরের হাইজাম্পে সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন সোমা। এরপর সাহস করে জাতীয় স্তরে নামার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। মনের ভিতরে একটা জেদ চেপে বসে তাঁর। সেই সময় কোচ ছিলেন জীবন মৈত্র। সেই বছরই জাতীয় স্তরেও স্বর্ণপদক জেতেন এই ভুগোলের শিক্ষিকা। তারপর থেকেই শিক্ষকতার পাশাপাশি খেলাতেও মনোনিবেশ করেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এবার অংশগ্রহণ করতে তাইওয়ানে এশিয়ান গেমসে যাবেন। এখন তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ওয়ার্ল্ড মিট, এশিয়ান গেম এবং ন্যাশনালের একাধিক স্বর্ণপদক।

আরও পড়ুনঃ জিনাতকে আনা হল আলিপুর চিড়িয়াখানায়! বাঘিনীর চিকিৎসা হবে কলকাতাতেই

১৯৫৪ সালে বীরপাড়ার মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম সোমার। বাবা চাকরি করলেও সংসারে টানাটানি লেগেই থাকত। আট সন্তানকে নিয়ে শিলিগুড়িতে চলে আসেন সোমার বাবা। সোমা জানিয়েছেন, শিলিগুড়ির হাকিমপাড়া প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা তাঁর। এখান থেকে ভর্তি হন গার্লস হাইস্কুলে। এরপর শিলিগুড়ি কলেজ থেকে ভূগোলে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন। স্নাতকোত্তর পাশ করেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কলকাতায় কিছুদিন পড়াশোনার পর ১৯৮৫ সালে গাজোলের একটি স্কুলে ভূগোলের শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। পরে ফাঁসিদেওয়া হাইস্কুলে বদলি হয়ে আসেন সমা দত্ত। ৩২ বছর সেখানে কাজ করছেন তিনি।

About Post Author